পূর্ব সীমান্তের নাইক্ষ্যংছড়ি, রামু ও আলীকদমে কিশোর গ্যাংয়ের অন্তত ১০০ জন সদস্য সীমান্ত চোরাচালান, ইয়াবা পাচার ও ইয়াবা লুটে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাদের একটি অংশ দলীয় পরিচয় দিয়ে পার পেলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পড়েছে বেকায়দায়। সরেজমিনে অনুসন্ধান এ তথ্য বেরিয়ে আসে।
সুত্রমতে, গত ৩ বছর ধরে বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে চোরাচালান বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজিবিও রয়েছে কঠোর অবস্থানে। কিন্তু জঙ্গলাকীর্ণ সরুপথ দিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ও আলীকদম দিয়ে মিয়ানমার থেকে ৪৫ টি পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে আসছে ইয়াবা টেবলেটের বড় বড় চালান। বিশেষ করে সীমান্তের ৫৮, ৫৭, ৫৬, ৫৩, ৫২, ৫১, ৫০, ৪৯, ৪৭, ৪৮, ৪৬, ৪৪, ৪৩, ৪২, ৩৬, ৩৫, ৩৪, ৩৩ ও ৩১ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকা দিয়ে এসব চালান আসছে নিয়মিত। এসব চালান দেশের বড় শহরগুলোতে যাচ্ছে সীমান্তের আরো ৪ উপজেলা পার হয়ে। উপজেলা গুলো হলো, ঈদগাও, রামু, উখিয়া ও চকরিয়া। বিশেষ করে রামু ও উখিয়া উপজেলার ৮ ইউনিয়ন সহ পুরো সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে একশত কিশোর গ্যাং ইয়াবা কারবারীদের মূল শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করছে। তারা এখন ঢাল। সম্মান বাচাঁতে তাদের বে-আইনী কাজের বাঁধা হচ্ছে না কেউ।
অপর একাধিক সূত্রমতে, একেকটি কিশোর গ্যাং-এ থাকে ৫ থেকে ১০ জন। যাদের বয়স ১২ থেকে ২৫ পর্যন্ত। অনেক ক্ষেত্রে যুবকরা তাদের তাদের নিয়ন্ত্রক। তাদের অধিকাংশের হাতে রয়েছে দেশী-বিদেশী ছোট অস্ত্র। আবার অনেকে এ সব অস্ত্র ব্যবহার করে ডাকাতির কাজ করে। রামুর গর্জনিয়া, ঈদগড় ও নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে ডাকাত দলের সংখ্যা ৬টির বেশি।
সুত্র দাবী করেছে, এসব এলাকায় ইয়াবা লুটের ঘটনা ঘটেছে গত ১ মাসে অন্তত ৫০ টির অধিক। যোখানে কয়েক কোটি টাকার ইয়াবা লুট হয়েছে।
এ সব ঘটনা ঘটেছে, ইদগড়, বাইশারী, মৌলভীকাটা, তিতারপাড়ার, ফাক্রিকাটা, আদর্শগ্রাম, দৌছড়ি, তুলাতলী, কাউয়ারখোপ, তুলাতলী-২, দোছড়ি, বালুবাসা, হাজিরপাড়া, ক্যায়জারবিল সহ আরো বেশ কয়েকটি গ্রামে। যা নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় চলছে এ সব এলাকায়।
আর যারা এ সব কান্ড জড়িত, তাদের একটি অংশ নিজেদের রাজনৈতিক দলের পরিচয় দেয়। ফলে প্রশাসনের লোকজন পড়ে বেকায়দায়।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মো: মোজাম্মেল হক বলেন, কিশোর গ্যাং নিয়ে পুলিশও বেকাদায়। কারণ সীমান্ত এলাকা অনেক দূরে। পুলিশ লোকালয়ে কাজ করে, সীমান্তে নয়। তার পরেও কয়েক মাসে পুলিশ কয়েক কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ করেছে লোকালয় থেকে। কিশোরগ্যাং বা চোরাকারবারীদের অপতৎপরতা রোধেও সচেষ্ট পুলিশ।
সম্প্রতি এ সব কিশোর গ্যাংরা ইয়াবা টেবলেটের চালান লুটপাটের খবর পাচ্ছে পুলিশ। এ ছাড়া কোন ঘটনা ঘটলে দলীয় পরিচয় দেয়ারও চেষ্টা করছে অনেকে। এভাবে পক্ষ-বিপক্ষ হয়ে তারা এ সব ঘটনা নিয়ে পুলিশকে ব্যবহার করতে চেষ্ঠা করা হয়। ফলে পুলিশ নানা কারণে বেকায়দায়।