কুমিল্লায় জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলার তদন্তে কক্সবাজারের কলাতলী থেকে হোটেল কর্মচারী রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে কলাতলীর বিকাশ বিল্ডিং এলাকা থেকে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
বান্দরবানের লামা উপজেলার বাসিন্দা রাজু কলাতলীর একটি আবাসিক হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কর্মরত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, “ছেলেটির নাম-পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তার সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। কুমিল্লা থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা এলে তাদের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হবে। অন্যথায়, কক্সবাজারে আদালত থাকায় আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তাকে আদালতে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে কুমিল্লার তদন্তকারী কর্মকর্তারা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
অহিদুর রহমান আরও বলেন, রাজুকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মূল ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে কিছু বিষয় স্বীকার করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মেয়েটি তার কাছে এসেছিল এবং এক রাত সেখানে অবস্থান করেছিল। পরে সে মেয়েটিকে আবার গাড়িতে তুলে দেয়। এ ছাড়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের পরিচয় ও যোগাযোগের বিষয়টিও সে স্বীকার করেছে।”
এর আগে ৪ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ ছিল তাজমিন। নিখোঁজের চার দিন পর গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে কুমিল্লার জগতপুর গ্রামের কাছিকাটা মসজিদসংলগ্ন কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়কের পাশের একটি ফসলি জমি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তাজমিনের বাবা আবদুল হালিমের দাবি, মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার পরও তার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়েছিল। তখন তাজমিন বান্ধবীর বাসায় রয়েছে বলে জানিয়েছিল। পরে দুপুরের দিকে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তিনি।
এ ঘটনায় মূল আসামি হিসেবে উল্লেখ করা সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।