কক্সবাজারের বিচ্ছিন্ন ও দুর্যোগপ্রবণ দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার সীমানা রক্ষায় এবং হাজার হাজার উপকূলীয় অধিবাসীর জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় উন্মোচিত হলো এক নতুন দিগন্ত। দীর্ঘদিনের তীব্র ভাঙন, জলোচ্ছ্বাসের বিভীষিকা ও জোয়ারের নোনা পানির স্থায়ী অবসান ঘটাতে সরকার ৯৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে এক মেগা টেকসই বেড়িবাঁধ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। আগামী মাস থেকেই এ প্রকল্পের ১ম পর্যায়ের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের রোমাইপাড়াসহ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, এমপি।
কুতুবদিয়ার প্রতিটি নির্বাচনী জনসভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের প্রধানতম ওয়াদা ছিল দ্বীপবাসীকে জোয়ার-ভাটার আতঙ্ক থেকে চিরতরে মুক্ত করা ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা। নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তিনি জাতীয় সংসদ এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে কুতুবদিয়ার বেড়িবাঁধ নির্মাণকে প্রধান অগ্রাধিকার দিয়ে জোর তদবির চালান।
কক্সবাজার বিমানবন্দরে পা রাখা মাত্রই মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের টিমের সামনে বেড়িবাঁধের টেকনিক্যাল ফাইল তুলে ধরে তিনি এই বরাদ্দ ও সফর নিশ্চিত করেন। আলমগীর ফরিদের টানা তৎপরতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার কারণেই দ্বীপবাসীর এই দীর্ঘদিনের জনদাবি আজ বাস্তব রূপ নিতে যাচ্ছে।
পরিদর্শনকালে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, কুতুবদিয়ার প্রায় ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের পুরো অংশকেই ধাপে ধাপে সুরক্ষায় নিয়ে আসা হবে এবং প্রথম পর্যায়ে সবচেয়ে জরুরি ও অতীব ঝুঁকিপূর্ণ অংশ- আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকায় আধুনিক 'সুপার ডাইক' ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ আগামী মাসেই শুরু হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট বার্তা ও নির্বাচনী ইশতিহারের মূল অংশ হলো কুতুবদিয়ার আর কোনো মানুষের ঘরবাড়ি কিংবা কৃষিজমি যেন সাগরের নোনা পানিতে তলিয়ে না যায়। উচ্চপর্যায়ের কারিগরি টিমের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা শেষে ৯৩২ কোটি টাকার বাজেট চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এর আগে সকাল ৯টায় বড়ঘোপ ঘাটে পৌঁছালে কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসন, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী প্রতিমন্ত্রী ও প্রতিনিধিদলকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান।
পরিদর্শনের সময় কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ.কে.এম শাহাবুদ্দিন, প্রকল্প পরিচালক রুহুল আমিন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী, প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান এবং কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুবুল হক।
এছাড়াও দলীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে কুতুবদিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল আহমদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছৈয়দ আহমদ চৌধুরী, সদস্য সচিব এম.এ. সালাম কুতুবীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ ভুক্তভোগী অধিবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।
কুতুবদিয়াবাসী জানান, প্রতি বর্ষায় ভিটেমাটি হারানোর যে আতঙ্কে তারা দিন কাটাতেন, এমপি আলমগীর ফরিদ এবং সরকারের এই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপে তা দূর হতে চলেছে এবং আগামী মাসে কাজ শুরু হওয়ার খবরে সমগ্র দ্বীপে এখন স্বস্তির আনন্দ বইছে।