# পর্যটন মৌসুম চলবে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত
# জনপ্রতি দিতে হবে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি
দীর্ঘ অপেক্ষার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক দ্বীপটি ভ্রমণ করতে পারবেন। পর্যটন মৌসুম চলবে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত। এ জন্য জনপ্রতি ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে।
রোববার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জারি করা একটি চিঠিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। তবে চিঠিটি এখনো কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়নি বলে জানা গেছে।
সরকারের এ সিদ্ধান্তে আনন্দিত সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন পর পর্যটন কার্যক্রম চালুর সুযোগ তৈরি হওয়ায় দ্বীপের মানুষের জীবিকা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরবে বলে আশা করছেন তাঁরা। এরই মধ্যে রোববার বিকেলে সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিলও করেছে দ্বীপবাসি।
সেন্টমার্টিনের নীল জলরাশি, প্রবালসমৃদ্ধ উপকূল আর দিগন্তজোড়া সমুদ্রের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিবছর সেখানে ছুটে যান দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা। তবে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটক চলাচল এবং পর্যটন কার্যক্রমে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগের মৌসুমে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকদের ভ্রমণের সুযোগ থাকলেও এবার তা বাড়িয়ে ১৫ মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দৈনিক পর্যটকের সর্বোচ্চ সংখ্যা দুই হাজার থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে।
পর্যটকদের কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট থেকে অনুমোদিত জাহাজে সেন্টমার্টিনে যেতে হবে। জাহাজের টিকিটের পাশাপাশি অনলাইন নিবন্ধন অথবা কিউআর কোডযুক্ত ট্রাভেল পাস থাকতে হবে।
সরকারের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে রোববার বিকেলে দ্বীপে আনন্দ মিছিল করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পর্যটন ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
দ্বীপের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট কেফায়েত উল্লাহ বলেন, দীর্ঘ দুই বছরের অপেক্ষার পর সেন্টমার্টিনে পর্যটন কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত তাঁদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। আগের বিধিনিষেধের মধ্যে দ্বীপবাসীর যে দুর্ভোগ তৈরি হয়েছিল, নতুন সিদ্ধান্তে তা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পর্যটক যাতায়াতের সময়সীমা ও নিয়মনীতি নির্ধারণ করায় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা খুশি।
দ্বীপের ব্যবসায়ী তৈয়ব উল্লাহ বলেন, পর্যটনই সেন্টমার্টিনের মানুষের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। দীর্ঘদিন পর পর্যটন কার্যক্রম চালুর সুযোগ তৈরি হওয়ায় ব্যবসায়ীসহ দ্বীপের বাসিন্দারা উপকৃত হবেন। সরকারের এ উদ্যোগকে তাঁরা স্বাগত জানান।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য দ্বীপ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দ ফিরে এসেছে। এ উদ্যোগের জন্য তিনি সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তাঁর ভাষ্য, দ্বীপের প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পর্যটন নিবিড়ভাবে জড়িত। আগামী চার মাস পর্যটকেরা দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তাঁরা আশা করছেন।
কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে জাহাজ কর্তৃপক্ষ।
ফারহান ট্যুরিজমের পরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, পর্যটকবাহী জাহাজগুলো বর্তমানে চট্টগ্রামে রয়েছে। জাহাজের রং করা এবং চেয়ার-সিট পরিবর্তনসহ প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে চলাচলের জন্য জাহাজগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই সেগুলো ঘাটে পৌঁছাবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল করবে। পর্যটকেরা সেখানে দিন ও রাত অবস্থান করতে পারবেন এবং প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার মানুষ দ্বীপে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।
দ্বীপের বাসিন্দা ও পর্যটনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তাঁর আশা, পর্যটন কার্যক্রম চালু হলে দ্বীপের মানুষের জীবন-জীবিকা ও পর্যটননির্ভর অর্থনীতি আবারও গতিশীল হবে।
পর্যটন কার্যক্রম চালু হলেও সেন্টমার্টিনের পরিবেশ সংরক্ষণে বিভিন্ন বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন ও ব্যবহার, সৈকতে রাতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে গান বাজানো এবং বারবিকিউ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এ ছাড়া ছেঁড়াদ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াতেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করাই এসব বিধিনিষেধের লক্ষ্য।