কক্সবাজারের সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার আগেই বাড়ছে ঝুঁকি। ঘন ঘন বৈরী আবহাওয়া ও তিন নম্বর সতর্ক সংকেতের কারণে বারবার ঘাটে ফিরতে হচ্ছে মাছ ধরার ট্রলার। এতে একদিকে যেমন ব্যাহত হচ্ছে মাছ আহরণ, অন্যদিকে প্রতিবার সাগরে যাওয়া-আসায় গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ও আগস্টে মোট ছয় দফায় তিন নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। এই দুই মাসে মোট ৩৮ দিন সংকেত বহাল ছিল। জুলাইয়ের শুরুতে টানা ১১ দিন, এরপর ৭ দিন ও ৬ দিন; আগস্টে ৮ দিন, ৩ দিন এবং সর্বশেষ আরও ৩ দিন সতর্ক সংকেত ছিল।
ঘন ঘন সংকেত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন ট্রলার মালিক ও জেলেরা। বাড়ছে ঋণের বোঝা, কমছে আয়। শুধু ট্রলার মালিক বা জেলে নন-মাছ ব্যবসায়ী, জেলে শ্রমিক, বরফকল, পরিবহন ও জ্বালানি তেল সরবরাহকারীসহ পুরো মৎস্য অর্থনীতিতেই এর প্রভাব পড়েছে।
কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া, ৬ নম্বর ঘাট, চেয়ারম্যান ঘাট ও মাঝির ঘাটে সরেজমিনে দেখা যায়, সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা। ট্রলারে উঠছে ডিজেল, বরফ, খাবার ও মাছ ধরার সরঞ্জাম। একটি ট্রলার সাগরে পাঠাতেই খরচ হচ্ছে কয়েক লাখ টাকা। কিন্তু সাগরে যাওয়ার পরপরই তিন নম্বর সতর্ক সংকেত জারি হলে মাছ ধরার সুযোগ না পেয়েই ফিরে আসতে হচ্ছে। বারবার এমন পরিস্থিতির কারণে অনেক ট্রলারই এখন ঘাটে নোঙর করে পড়ে আছে।
# একেকটি ট্রিপেই খরচ চার লাখের বেশি
একটি বাস্তব ট্রিপের হিসাবেই স্পষ্ট হয় এই আর্থিক চাপের চিত্র। ২১ জেলের খাবারের জন্য খরচ হয় ৫০ হাজার টাকা, মজুরি ও অগ্রিম ৯০ হাজার, বরফ ৩০ হাজার এবং ডিজেল বাবদ ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা। জাল ও অন্যান্য সরঞ্জামসহ মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৪ লাখ ১২ হাজার টাকা।
কক্সবাজার শহরের নতুন বাহারছড়া এলাকার এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মালিক মো. আব্দুল কাদের বলেন, গত দুই বছরে তাঁর মোট প্রায় ৪২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।
তিনি বলেন, “বিশেষ করে গত দুই মাসে বারবার ট্রলার সাগরে পাঠিয়েছি, আবার আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় ফিরিয়ে আনতে হয়েছে। প্রতিবার ট্রলার সাগরে পাঠাতে প্রায় ৪ লাখ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। কিন্তু মাছ বিক্রি করে কখনো ৫০ হাজার, কখনো ৮০ হাজার, আবার কখনো সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পাওয়া যাচ্ছে। এভাবে বারবার লোকসান দিতে দিতে এখন আমরা চরম বিপাকে পড়েছি।”
একই এলাকার এফবি মা, ফাহিম ও মাবিয়া খাতুন নামের তিনটি ট্রলারের মালিক জিল্লুর রহমান বলেন, “সাগরে এখন প্রায় মাছই নেই। মাছ থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ট্রলার ঠিকমতো সাগরে থাকতে পারছে না। তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই ফিরে আসতে হচ্ছে। অথচ প্রতিবার ট্রলার সাগরে পাঠাতে প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ হয়, কিন্তু মাছ বিক্রি করে সেই খরচও ওঠে না।”
তিনি বলেন, “এভাবে টানা লোকসান দিতে দিতে এখন আর ব্যবসা চালানোর মতো পরিস্থিতি নেই। মানুষের কাছ থেকে ধার-দেনা ও ঋণ করে কোনোভাবে চলছি, কিন্তু সেই ঋণও এখন পরিশোধ করতে পারছি না। পাওনাদারদের চাপ দিন দিন বাড়ছে।”
# সংকেত বাড়ছে, কমছে মাছ ধরার সময়
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, বর্ষাকালে লঘুচাপ, নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় তীব্র বাতাস, বৃষ্টিপাত ও সাগর উত্তাল হয়ে ওঠে। এ কারণে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখছি, এই সংকেত ঘন ঘন দেওয়া হচ্ছে। জুলাই ও আগস্ট-এই দুই মাসে ৩৮ দিন তিন নম্বর সংকেত ছিল এবং মোট ছয়বার এই সংকেত দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো সময় টানা ৭, ৮ এমনকি ১১ দিন পর্যন্তও সংকেত বহাল ছিল।”
আব্দুল হান্নান আরও বলেন, “তিন নম্বর সংকেত দেওয়া হলে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে দ্রুত উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে চলে আসতে হয়। কারণ এ সময় ঢেউয়ের উচ্চতা ও বাতাসের গতি বেড়ে যায়। সংকেত উপেক্ষা করে গভীর সাগরে গেলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলেদের নিরাপদ স্থানে ফিরে আসা এবং সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করা জরুরি।”
উপকূলের জেলেরা জানান, সাধারণত তারা ১১ থেকে ১৪ দিন সাগরে থেকে মাছ ধরার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু বাস্তবে অনেক ট্রলারকে মাত্র ২ থেকে ৩ দিন পরই ফিরে আসতে হচ্ছে। একেকটি ট্রলারের পেছনে খরচ হচ্ছে সাড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা। বিপরীতে মাছ উঠছে কখনো ২০ হাজার, কখনো এক লাখ টাকার। ফলে প্রতিটি ট্রিপেই লোকসান হচ্ছে প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা।
এফবি হাবীব ট্রলারের জেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় মাত্র তিন দিনের মাথায় ফিরে আসতে হয়েছে। মালিক ৪ লাখ টাকা খরচ করে ট্রলার পাঠিয়েছেন, কিন্তু আমরা মাত্র ৫০ পিস মাছ নিয়ে ফিরেছি। আমরা তো সাগরে থাকতে চাই, মাছ ধরতে চাই। কিন্তু সিগন্যাল উঠলে আর ঝুঁকি নিয়ে সাগরে থাকা সম্ভব হয় না।”
তিনি বলেন, “এখন মালিককে কীভাবে বলব, আমাদের টাকা দেন? আমরা নিজেরাই বিপদে আছি। আবহাওয়া খারাপ, মাছ নেই—এভাবে চললে আমাদের মতো জেলেরা কীভাবে বাঁচবে, সেটাই বুঝতে পারছি না।”
এফবি আল্লাহ দান ট্রলারের জেলে সাদ্দাম হোসেন বলেন, “আমাদের কোনো নির্দিষ্ট বেতন নেই। ট্রলার মালিক মাছ ধরতে পারলে টাকা দেন, মাছ না পেলে কোনো টাকা পাই না। এবার প্রায় দেড় মাস ধরে সাগরে যাওয়া-আসা করছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত ১০ হাজার টাকার মাছও পাইনি। মাছ না পেলে আমাদেরও কোনো আয় নেই। এভাবেই খুব কষ্টে দিন কাটছে।”
এফবি গালিব ট্রলারের জেলে দিদারুল ইসলাম বলেন, “দুই দিন পরপর, কখনো এক দিন পরপরই সিগন্যাল উঠছে। এভাবে সাগরে যাওয়া-আসা করতে গিয়ে আমরা খুব কষ্টে আছি। গত দুই মাসে এতবার সিগন্যাল উঠেছে যে ঠিকমতো মাছ ধরতেই পারছি না। আবহাওয়াও অনেক খারাপ যাচ্ছে। এই অবস্থায় আমরা কীভাবে টিকে থাকব, কীভাবে সংসার চালাব—কিছুই বুঝতে পারছি না।”
# লোকসানের ধাক্কা পুরো মৎস্য খাতে
বারবার লোকসানের কারণে কেউ ট্রলার ঘাটে নোঙর করে রাখছেন, আবার কেউ বছরের পর বছর আয়ের প্রধান উৎস এই নৌযানটি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রায় ৯০ লাখ টাকা খরচ করে তৈরি করা এফবি তানজিলা এখন বিক্রি করতে চান মালিক মো. আজাদুর রহমান। গত পাঁচ বছরের লোকসান ও ঋণের বোঝায় চরম সংকটে পড়েছেন তিনি।
আজাদুর রহমান বলেন, “প্রায় ৯০ লাখ টাকা খরচ করে ট্রলারটি তৈরি করেছিলাম। কিন্তু গত পাঁচ বছরে লোকসান দিতে দিতে প্রায় ৮০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এর ওপর ব্যাংকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ হয়ে গেছে।”
তিনি বলেন, “সাগরে একের পর এক লঘুচাপ, নিম্নচাপ, জলোচ্ছ্বাস-প্রায় সারা বছরই কোনো না কোনো ঝুঁকি থাকে। তারপরও মাঝি-মাল্লাদের পরিবারের কথা চিন্তা করে ঝুঁকি নিয়ে ট্রলার সাগরে পাঠাই। কিন্তু মাছ পাই না, লোকসানই হয়।”
পুরোনো দিনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমরা ছোটবেলায় দেখেছি, একেকটি ট্রলার ১০-২০ হাজার, এমনকি ৩০ হাজার পর্যন্ত ইলিশ নিয়ে কক্সবাজারে ফিরেছে। এখন সেই সাগরেই মাছ যেন দিন দিন কমে যাচ্ছে। সাগরের তলদেশ ধ্বংস করে এমন জাল ও অবৈধ পদ্ধতির কারণেও মাছের পোনা ও ডিম নষ্ট হচ্ছে বলে আমরা মনে করি।”
আজাদুর রহমান বলেন, “এভাবে আর কতদিন লোকসান দিয়ে টিকে থাকব? বাধ্য হয়ে এখন ট্রলারটি বিক্রি করার চিন্তা করছি। ট্রলার বিক্রি করে হয়তো ছোটখাটো মাছের ব্যবসা করব। কিন্তু সাগরে মাছ না থাকলে আমাদের মতো জেলেদের ভবিষ্যৎ কী হবে?”
তিনি সরকারের কাছে সহজ শর্তে ঋণ ও আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়ে বলেন, “সরকার যদি আমাদের সহজ শর্তে ঋণ বা আর্থিক সহায়তা দেয়, তাহলে হয়তো আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে পারব। আমরা দান চাই না—আমরা কাজ করে বাঁচতে চাই।”
# দুই মাসে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতির দাবি
মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ব্যবসায়ী ঐক্য সমবায় সমিতির দাবি, গত দুই মাসে প্রায় ৩ হাজার ট্রলারের বারবার যাওয়া-আসায় মোট লোকসান হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তাদের হিসাবে, শুধু ট্রলার মালিক নয়-জেলে পরিবার, মাছ ব্যবসায়ী, শ্রমিক, বরফকল ও জ্বালানি তেল সরবরাহকারীসহ পুরো খাতই আর্থিক চাপে পড়েছে।
সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, “বৈরী আবহাওয়া ও ঘন ঘন সতর্ক সংকেতের কারণে ট্রলার মালিকরা ঋণ করে ট্রলার সাগরে পাঠাচ্ছেন। কিন্তু দুই-তিন দিন মাছ ধরার পরই আবার ফিরে আসতে হচ্ছে। এভাবে গত দুই মাস ধরে তাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “কক্সবাজারের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ট্রলারের মধ্যে যদি তিন হাজার ট্রলারও নিয়মিত সাগরে যাওয়া-আসা করে, তাহলে প্রতিটি ট্রলারের পেছনে গড়ে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। আমাদের হিসাবে, দুই মাসে এই খাতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় পর্যাপ্ত মাছ নিয়ে ফিরতে পারছেন না ট্রলার মালিকরা।”
জয়নাল আবেদীন বলেন, “কেউ ৪-৫ লাখ টাকা খরচ করে সাগরে গিয়ে মাত্র ২০-৩০ হাজার টাকার মাছ নিয়ে ফিরছেন। ফলে পুরো মৎস্য খাতেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জেলে পরিবার, ট্রলার মালিক, মৎস্য ব্যবসায়ী, জেলে শ্রমিক, বরফকল থেকে শুরু করে জ্বালানি তেল সরবরাহকারী-সবাই আর্থিক সংকটে পড়েছেন। প্রতিদিন সাগর উত্তাল থাকায় কক্সবাজারের মৎস্য খাত এখন অত্যন্ত খারাপ সময় পার করছে।”
# নিষেধাজ্ঞা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুই চাপেই জেলেরা
তবে বৈরী আবহাওয়ার পাশাপাশি মাছের উৎপাদন ও প্রজনন রক্ষায় নির্দিষ্ট সময় মাছ ধরা বন্ধ রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছে মৎস্য বিভাগ।
কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, “কক্সবাজারে তালিকাভুক্ত ট্রলারের সংখ্যা ৫ হাজার ২৫০টি। বাস্তবে এসব ট্রলারের প্রায় সবই কোনো না কোনোভাবে সাগরে মাছ ধরার সঙ্গে যুক্ত। প্রতিবছর ৫৮ দিনের জন্য সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এ সময় সরকার জেলেদের ভিজিএফের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা দিয়ে থাকে। পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থান ও আয়বর্ধক বিভিন্ন কর্মসূচিও রয়েছে।”
তিনি বলেন, “তবে ট্রলার মালিকদের জন্য বর্তমানে সরাসরি কোনো প্রণোদনা বা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেই। চলতি বছর নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় বৈরী আবহাওয়া থাকায় জেলে ও ট্রলার মালিকরা মাছ আহরণে সমস্যায় পড়েছেন। তবে এটি মূলত প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত পরিস্থিতি।”
নাজমুল হুদার মতে, মাছের উৎপাদন ও প্রজনন নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখা জরুরি। কারণ নিরবচ্ছিন্নভাবে মাছ আহরণ চলতে থাকলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন কমে যেতে পারে।
তিনি বলেন, “ট্রলার মালিকদের সহায়তার বিষয়ে এখনো সরকারের কাছ থেকে নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তবে জেলে, মাছ আহরণ ও চিংড়ি শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিমার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, ভবিষ্যতে সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।”
# সামনে অনিশ্চয়তা
সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার আগে এখন তাই জেলে ও ট্রলার মালিকদের নতুন করে হিসাব কষতে হচ্ছে-কত টাকা খরচ হবে, কতদিন সাগরে থাকা যাবে, আর শেষ পর্যন্ত মাছ নিয়ে ঘাটে ফেরা সম্ভব হবে কি না।
প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই যাদের জীবিকা, সেই জেলে ও ট্রলার মালিকদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-লোকসানের এই চক্র থেকে বের হওয়ার পথ কোথায়?
সাগরের উত্তাল ঢেউ শুধু ট্রলারকেই দুলিয়ে দিচ্ছে না; দুলছে হাজারো জেলে পরিবারের জীবিকা, ঋণের বোঝায় নুয়ে পড়ছেন ট্রলার মালিকরা, আর তার ঢেউ এসে আঘাত করছে কক্সবাজারের পুরো মৎস্য অর্থনীতিতে।