নদীর পানির নিচে ডুবিয়ে রাখা স্টিলের তার। সেই তারের সঙ্গে যুক্ত কাঠের তৈরি ভাসমান ক্যারিয়ার। বৈদ্যুতিক মোটর ও কপিকলের সাহায্যে নাফ নদী পেরিয়ে খাল ধরে বাংলাদেশের ভেতরে ঢোকানোর ব্যবস্থা। এমন কৌশলে একসঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ পিস ইয়াবা আনা সম্ভব বলে ধারণা করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ক্যারিয়ারটি ও এটি পরিচালনার সরঞ্জাম জব্দ করেছে বিজিবি। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১১ রাউন্ড গুলিসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে পালংখালী সীমান্তসংলগ্ন আঞ্জুমানপাড়া এলাকায় অভিযান চালায় পালংখালী বিওপির একটি টহল দল। মনিরের ঘেরের একটি মাচাংঘরের পাশে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে দেখে তাদের চ্যালেঞ্জ করা হয়। তারা পালানোর চেষ্টা করলে দুজনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন বেলাল উদ্দিন (৩৫) ও খোরশেদ আলম (২৬)। বেলাল উদ্দিন উখিয়ার বালুখালী নলবনিয়া গ্রামের নুর আলমের ছেলে। খোরশেদ আলম একই এলাকার মধ্যম ফারির বিল গ্রামের ফরিদ আলমের ছেলে।
পরে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি, নয়টি কপিকল, কাঠের তৈরি একটি ডুবন্ত ক্যারিয়ার, প্রায় দুই কিলোমিটার স্টিলের তার, একটি ব্যাটারি, একটি বৈদ্যুতিক মোটর ও একটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়।
বিজিবির ধারণা, ক্যারিয়ারটি নাফ নদী পেরিয়ে পালংখালীর ফাইস্যাখালী খাল দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইয়াবা আনার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। স্টিলের তার ও কপিকলের সাহায্যে আঁকাবাঁকা খাল দিয়ে এটি টেনে নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। ক্যারিয়ারটিতে একসঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ পিস ইয়াবা বহন করা সম্ভব বলে মনে করছে বিজিবি। তবে এই কৌশলে আগে কোনো মাদকের চালান আনা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিজিবির ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তে নজরদারি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ফলে মাদক পাচারকারীরা পাচারের নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে মাদকবিরোধী অভিযানে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার পিসের বেশি ইয়াবা জব্দ করেছে ৬৪ বিজিবি। এসব অভিযানে ২২৮ জনকে আটক করা হয়েছে।