প্রায় এক বছর পর আবারও লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কারের ঘোষণা দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ ঘোষণা দেন বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
তবে এবার টাকার সর্বোচ্চ অঙ্ক ২ লাখ টাকা। এর আগে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজধানীর রাজারবাগের পুলিশ অডিটরিয়ামে পুলিশ সদরদপ্তর আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলন শেষে মন্ত্রী এই পুরস্কারের ঘোষণা দেন।
অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের জন্য সরকার পুরস্কারের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, যারা ভারী অস্ত্রের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন, তাদেরকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কৃত করা হবে। পিস্তল, রিভলবার বা শটগান জাতীয় অস্ত্রের তথ্যদাতাকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।
এছাড়া সাউন্ড গ্রেনেড, লুণ্ঠিত টিয়ারগ্যাস শেল এবং অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্রের তথ্য দিয়ে যারা সহায়তা করবেন, তাদেরকেও ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা করে পুরস্কৃত করা হবে, বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
চব্বিশের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন তার সরকারি বাসভবন গণভবন, জাতীয় সংসদ ভবন ও দেশের বহু থানা, পুলিশ ফাঁড়ি আক্রান্ত হয়। প্রায় সাড়ে তিন হাজার অস্ত্র হয়েছিল বলে সংবাদ মাধ্যমের খবর এসেছে।
এসব অস্ত্র উদ্ধানে গেল বছর ২৫ অগাস্ট আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী তথ্যদাতাদের পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
তার ঘোষনায় পিস্তল ও শর্টগানের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা, চায়না রাইফেলের ক্ষেত্রে এক লাখ টাকা, এসএমজির ক্ষেত্রে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা ও এলএমজির ক্ষেত্রে পাঁচ লাখ টাকা, প্রতি রাউন্ড গুলির ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা হারে তথ্যদাতাকে পুরস্কৃত করার কথা বলা হয়েছিল।
গেল এক বছরে লুণ্ঠিত অস্ত্রের কিছু উদ্ধার হলেও এখনও একটি বড় অংশ বাইরে রয়ে গেছে।
সেই লুণ্ঠিত অস্ত্রের সঙ্গে এবার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করা হল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব ও জনপ্রত্যাশিত সংস্থায় পরিণত করে এর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নিয়মিত কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
“লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ ইউনিট গঠন করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।”
আগের মতো এবারও তথ্যদাতার নাম-পরিচয়সহ সবকিছু গোপন থাকবে বলা হয়েছে।
তবে গত এক বছরে অস্ত্র উদ্ধারে কয়জন তথ্যদাতা পুরস্কার পেয়েছেন সে তথ্য দেওয়া হয়নি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
তথ্যদাতাদের সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, “তথ্যদাতাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।”
“এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব অস্ত্রের বাতিলকৃত লাইসেন্স জমা দেওয়া হয়নি, সেগুলোকে ইতোমধ্যেই অবৈধ অস্ত্র হিসেবে গণ্য করে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সেগুলো উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে,” বলেন তিনি।
সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়ে পুলিশের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
“কোনো কর্মকর্তা এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সারাদেশে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি রোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তায় বিশেষ কৌশলগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলন অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম।
সেখানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন।
দেশের বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, বিভিন্ন মহানগরের পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ও মতবিনিময় করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।