জেলায় নতুন সার ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন ৭৪ জন। ৫ টি উপজেলার ৫ ইউনিয়নের কোন আবেদনকারী না থাকায় উক্ত ৫টি ইউনিয়নে ডিলারের পদ শূন্য রয়েছে। ৩৯৫ টি আবেদনের বিপরীতে ওই ৭৪ জনকে যাচাই বাছাই করে কৃষি মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিয়োগ প্রদান করাে পরিপত্র জারি করেছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক। আবেদন না পড়ার কারনে শূন্য থাকা ৫টি ইউনিয়ন হলো রামুর চাকমারকুল, কুতুবদিয়ার লেমশীখালী, পেকুয়ার উজানটিয়া, টেকনাফের সেন্টমার্টিন এবং মাতামুহুরি উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন। ক্রমবর্ধমান সারের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিয়োগ পাওয়া ডিলারগণ জেলায় বরাদ্দ পাওয়া সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করবেন।
এদিকে সদ্য সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কক্সবাজার বিএনপিতে। তালিকা গ্রকাশের পরই আওয়ামী লীগের পদবীধারী অনেককে ডিলারশিপ দেয়ার অভিযোগে আলোচনা সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ।
ত্যাগিদের বাদ দেওয়া হয়েছে দাবি করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন জেলা শ্রমিক দলের আহবায়ক মো: রফিকুল ইসলাম। রামুতে আওয়ামী লীগের পদবী আছে এমন নেতাকে ডিলার নিয়োগ করায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
এদিকে জেলায় ৭৪ জন নিয়োগ পাওয়া ডিলাররা হলেন কক্সবাজার পৌরসভার উত্তর ডিককুলের মেসার্স জহির ট্রেডার্স, ঝিলংকা ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি মেসার্স রাশেদ এন্ড ব্রাদার্স, পিএমখালী ইউনিয়নের প্রয়াত বিএনপির সভাপতি সৈয়দ নূরের পুত্র মোহাম্মদ আফসার কামাল, খুরুশকুল ইউনিয়নের বিএনপি নেতা আখতারুজ্জামান এর পক্ষে মদিনা ট্রেডার্স, চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম, ভারয়াখালী ইউনিয়নের রিয়াজউদ্দিনের মেসার্স কৃষক ভরসা এগ্রো।
মহেশখালী উপজেলায় নিয়োগ পেয়েছেন ৬ জন ডিলার। এরা হলেন মহেশখালী পৌরসভার বিএনপি নেত্রী কুলসুম আক্তারের মেসার্স শিহাব এন্টারপ্রাইজ, আলী আকবরের আকবর এন্টারপ্রাইজ, বড় মহেশখালীর মুক্তার আহমদের মেসার্স আনোয়ারা ট্রেডার্স, হোয়ানকের মোহাম্মদ আসাদুল্লাহর ভাই ভাই স্টোর, কালারমারছড়া ইউনিয়নের মিজানুর রহমানের মিজান এন্টারপ্রাইজ, মাতারবাড়ী ইউনিয়নের নুরুল আলমের মেসার্স জাহান এন্টারপ্রাইজ, ধলঘাটা ইউনিয়নের মোঃ হাসান রিয়াদের মেসার্স আল্লাহর দান এন্টারপ্রাইজ, শাপলা পুর ইউনিয়নের শহিদুল ইসলাম এর শহীদ এন্টারপ্রাইজ এবং ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের গোলাম মোস্তফার মোস্তফা ট্রেডার্স।
কুতুবদিয়া উপজেলায় ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন পাঁচজন। এরা হলেন উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের রিয়াজুল ইসলামের রিয়াজ এন্টারপ্রাইজ, দক্ষিণ ধুরং ইউনিয়নের সৈয়দ মুহাম্মদ মোজাব্বির এর মেসার্স সৈয়দ এন্টারপ্রাইজ, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের সাবিনা ইয়াসমিন আফরোজার এসএ এন্টারপ্রাইজ, মোহাম্মদ আনসারীর মেসার হালিমা এন্টারপ্রাইজ এবং আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের আবু বক্কর এর মেসার্স আবরার এন্টারপ্রাইজ।
ঈদগাঁও উপজেলার সার ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন পাঁচজন। এরা হলেন ঈদগাঁও ইউনিয়নের মোহাম্মদ রহিমুল্লাহর আল্লাহর দান বিজ বিতান, জালালাবাদ ইউনিয়নের সিফাত রহমানের সিফাত এন্ড ব্রাদার, ইসলামাবাদ ইউনিয়নের মেসার্স ইব্রাহিম এন্ড সন্স, পোকখালি ইউনিয়নের মোঃ আব্দুল্লাহ আর মেসার্স খান এন্ড সন্স এবং ইসলামপুর ইউনিয়নের শহিদুল মোর্শেদ ইমরানের মেসার্স ইমরান এন্ড ব্রাদার্স।
টেকনাফ উপজেলায় ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন ৬ জন। এরা হলেন সাবরাং ইউনিয়নের হেলাল উদ্দিনের মেসার্স এন্ড ফরহান এন্টারপ্রাইজ হ্নীলা ইউনিয়নের নুরুল হুদা, বাহারছাড়া ইউনিয়নের আব্দুল গফুরের মেসার্স আব্দুল গফুর ট্রেডার্স, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের আব্দুল গফুরের আদনান ইসরাক ট্রেডিং, সাবরাং ইউনিয়নের মোঃ হাশেমের মেসার্স হাসেম স্টোর, টেকনাফ পৌরসভার রবি আলমের টেকনাফ কৃষি বিতান। এছাড়া সেন্টমার্টিন ইউনিয়নে কোন আবেদন না থাকার কারণে ডিলার নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
রামু উপজেলায় ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন ১০ জন। চাকমারকুল ইউনিয়নে কোন আবেদন না পড়ায় কোন ডিলার নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। রামু উপজেলায় নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলাররা হলেন কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ নেতা শাহ আলম।
দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপি নেতা জাবেদ ইকবালের স্ত্রী প্রিয়ঙ্কা জাহান তানজিম। রশিদনগর ইউনিয়নে হাবিবুল মতিন আহাদ এর মেসার্স আহাদ কৃষিবিতান, জোয়ারিয়া নালা ইউনিয়নে নিয়োগ পেয়েছেন মুজাফফর আহমেদ, রাজারকুল ইউনিয়নে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপি নেতা শওকত ওসমান, ফতেখারকুল ইউনিয়নে নিয়োগ পেয়েছেন মেসার্স জহির এন্টারপ্রাইজের জহির আলম, কাউয়াুকোপ ইউনিয়নের নিয়োগ পেয়েছেন মেসার্স হোসেন এন্টারপ্রাইজের আলী হোসেন, গর্জনীয়া ইউনিয়নের নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন, খুনিয়াপালং ইউনিয়নে বিএনপি নেতা বোরহান উদ্দিন এবং কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে নিয়োগ পেয়েছেন মেসার্স আলহাজ্ব আবছার এন্টারপ্রাইজের নুরুল আবসার।
মাতামুহুরি উপজেলায় নিয়োগ পেয়েছেন ৬ জন ডিলার। বিএনপি নেতা যথাক্রমে বদরখালী ইউনিয়নের মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিনের মেসার্স আল আইন ট্রেডার্স, কোনাখালী ইউনিয়নের মোহাম্মদ ইউনুস এর ইউনুস এন্টারপ্রাইজ, সাহার বিল ইউনিয়নের নুরুল ইসলামের প্রজাপতি এন্টারপ্রাইজ, দক্ষিণ বড় ভেওলার এর মেসার্স নুর মোহাম্মদ এন্টারপ্রাইজ, পূর্ব বড় বেওলার মোহাম্মদ মোরশেদুর রহমানের মোরশেদ এন্টারপ্রাইজ এবং ভেওলা মানিকচর ইউনিয়নের মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের আরাফ ট্রেডিং কর্পোরেশন।
চকরিয়া উপজেলায় নিয়োগ পেয়েছেন ১৫ জন ডিলার। এরা হলেন হারবাং ইউনিয়নের বিএনপি নেতার স্ত্রী জারিয়াতুল জান্নাত, মালুমঘাটে নিয়োগ পেয়েছেন মিজানুর রহমানের মেসার্স মায়া স্টোর, ডুলহাজারা ইউনিয়নে মিতফাউল জান্নাত সাকি,খুটাাখালী ইউনিয়নের শফিউল আলম শফি এর ফাহিম এন্টারপ্রাইজ, ফাশিয়াখালী ইউনিয়নের সৈয়দ আলম এর মেসার্স আলম এন্টারপ্রাইজ, বরইতলিতে মুরাদুল ইসলামের আইয়ান এন্টারপ্রাইজ এবং পহরচাদা ইউনিয়নে নজরুল ইসলামের মেসার্স পহরচাদা কৃষি বিতান। চকরিয়া পৌরসভার নাজিমুদ্দিনের মেসার্স রাফি এন্টারপ্রাইজ, লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের মোঃ আইয়ুবের ইসলামী এন্টারপ্রাইজ, সুরাজপুর মানিকপুরের মোহাম্মদ শামসুল আলমের মেসার্স আলম এন্টারপ্রাইজ, কাকরা ইউনিয়নের মোহাম্মদ সাবের আহমদের শাহ ওমর বীজ ভান্ডার, বমু বিলছড়ির মোহাম্মদ নাজমুল হকের হক এন্টারপ্রাইজ, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের শামীম আহমেদের মেসার্স শামীম এন্টারপ্রাইজ, চিরিঙ্গা ইউনিয়নের জয়নাল আবেদীনের মেসার্স জয়নাল এন্টারপ্রাইজ, উত্তর হারবাংয়ের নেজামুদ্দিনের মেসার্স নেজাম আহমেদ এন্টারপ্রাইজ।
অপরদিকে পেকুয়া উপজেলায় নতুন নিয়োগ পেয়েছে সাতজন সার ডিলার। তারা হলেন পৌরসভার জালাল উদ্দিনের জালাল এন্টারপ্রাইজ, পেকুয়া সদরের সেলিম উদ্দিনের আহাদ এন্টারপ্রাইজ, টৈটং ইউনিয়নের মুজাহিদুর রহমানের মেসার্স হোসেন এন্ড সন্সএন্টারপ্রাইজ, মগনামা ইউনিয়নের মোহাম্মদ সোহেল আজিমের মেসার্স সবজাত এন্টারপ্রাইজ, রাজাখালীর মোহাম্মদ আলী মুরশেদ এর মেসার্স মোর্শেদ এন্টারপ্রাইজ, শীলখালীর খোরশেদ আলমের মেসার্স নাজিম উদ্দিন এন্টারপ্রাইজ, বারবাকিয়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ তাওহিদুল ইসলামের মেসার্স তাওহীদ কৃষি বিতান।
এদিকে নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলারদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করার পর সন্তোষজনক হলে ৩ মাস পর নিয়োগ স্থায়ী করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোঃ আ: মান্নান। তিনি নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলারদের সততা ও জবাবদিহিতার বিষয়টি মাথায় রেখে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং স্বনির্ভর দেশ গড়তে কাজ করার আহ্বান জানান।