কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৯০০ পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ, খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রোগ্রাম ফর হেলপলেস অ্যান্ড ল্যাগড সোসাইটি (পালস)।
মাল্টিজার ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় এবং টুগেদার প্রকল্পের 'বন্যাদুর্গত এলাকায় মানবিক সহায়তা' (HOIFA) কর্মসূচির অধীনে গত ১৮ ও ১৯ আগস্ট দুই দিনব্যাপী এই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় চকরিয়ার চিরিংগা ও কাকারা এবং পেকুয়ার বারবাকিয়া ও রাজাখালী ইউনিয়নে এই ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পালস-এর দুর্যোগ মোকাবিলা টিম দীর্ঘ ২৮ দিন ধরে মাঠপর্যায়ে জরিপ চালিয়ে বন্যায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে। এই তালিকার ভিত্তিতে ৯০০ পরিবারের মধ্যে ৩৮৬টি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া অবশিষ্ট ৫১৪টি পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ মোট ১২ ধরনের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় (নন-ফুড) সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) নিজ নিজ এলাকায় উপস্থিত থেকে পৃথকভাবে এই সহায়তা বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় পালসের পরিচালক, সংগঠনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে পালস-এর অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক আবু মোরশেদ চৌধুরী (খোকা) বলেন, "বন্যা-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রক্রিয়ায় (রিকভারি) সহায়তা করাই আমাদের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। মাঠপর্যায়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, যা তাদের সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"