‘মেয়ে কালো হয়ে যাচ্ছে, বিয়ে হবে কীভাবে?’ কিংবা ‘মেয়েরা কেন সার্ফিংয়ে যাবে, এসব তো ছেলেদের কাজ!’ প্রতিবেশীদের এমন অগণিত কটূক্তি আর সামাজিক বাধা পেছনে ফেলে লাল-সবুজের ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন ফাতেমা আক্তার। এশিয়ান গেমসের সার্ফিং ইভেন্টে বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার হিসেবে অংশ নিয়ে ইতিহাস লিখতে যাচ্ছেন কক্সবাজারের এই অদম্য তরুণী।
আগামী ২৫ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর জাপানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০তম এশিয়ান গেমস 'আইচি-নাগোয়া'-র সার্ফিং প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। এই ইভেন্টে এশিয়ার ১৭টি দেশের ৪৮ জন প্রতিযোগীর মধ্যে নারী বিভাগে ফাতেমা আক্তার এবং পুরুষ বিভাগে মো. মান্নান লড়বেন।
জাপানে রওয়ানা হওয়ার আগে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ফাতেমা তার উঠে আসার এই কণ্টকাকীর্ণ গল্প তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘আমি যখন প্রতিদিন সার্ফিং অনুশীলনে যেতাম, তখন সমাজের মানুষ অনেক খারাপ নজরে তাকাত। আমার পরিবারকে নিয়ে নানান কথা বলত। মায়ের কাছে প্রতিবেশীদের অভিযোগের কারণে একপর্যায়ে সার্ফিং বন্ধ করে ঘরে বসে থাকতে হয়েছিল’
ফাতেমার তিন বোনের মধ্যে বাকি দুজনের বিয়ে হয়ে গেছে। বর্তমানে ছোট মেয়ে হিসেবে তিনি মায়ের সঙ্গেই থাকেন। সমাজের একের পর এক অপপ্রচারে অতিষ্ঠ হয়ে একসময় ফাতেমার মা-ও তাকে সার্ফিং ছাড়তে বাধ্য করেছিলেন। তবে খেলাটির প্রতি অদম্য ভালোবাসা আর কোচ রাশেদ আলমের বিশেষ মধ্যস্থতায় ফাতেমার মা অবশেষে মেয়েকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ দেন।
সামাজিক শিকল ভেঙে আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার এই সুযোগকে নিজের স্বপ্নপূরণ হিসেবে দেখছেন ফাতেমা।
দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে ফাতেমা বলেন, ‘আমার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল দেশের বাইরে বড় কোনো প্রতিযোগিতায় সার্ফিং করব। কোয়ালিফাই করার পর এখন দেশের লাল-সবুজ পতাকা বহনের সুযোগ পেয়েছি। আমি সবাইকে প্রমাণ করে দেখাতে চাই, শুধু ছেলেরা পারে তা নয়, সঠিক সুযোগ পেলে মেয়েরাও সব পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সার্ফিংয়ের পথচলাটা অত্যন্ত কষ্টের ছিল, খেলাটি এখনও আমাদের দেশে পুরোপুরি পরিচিত নয়। তবে এশিয়ান গেমসে সুযোগ পাওয়ার পর আগের সব কষ্ট এক নিমেষে ভুলে গেছি। আমার লক্ষ্য শুধু অংশগ্রহণ নয়, জাপানের মাটি থেকে দেশের জন্য সম্মান ও পদক ছিনিয়ে আনা।’
উল্লেখ্য, ফাতেমা ও তাঁর সহ-প্রতিযোগী মান্নান জাপানের মঙ্গলবার রাতে জাপানে পৌছেছেন। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা থেকে জাপানের সমুদ্রসৈকতে শুরু হবে তাঁদের এই ঐতিহাসিক লড়াই।