কক্সবাজারের প্রান্তিক লবণ চাষিদের স্বার্থ সংরক্ষণ, জেটি ইজারাদারদের নৈরাজ্য বন্ধ এবং মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা ও যানজট পরিস্থিতির উন্নয়নে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ। জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এসব দাবি সরব উপস্থাপনের পর একই দিন বিকেলে দলীয় অনুষ্ঠানেও কৃষক ও চাষিদের অধিকার রক্ষায় নিজের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এমপি আলমগীর ফরিদ কৃত্রিম লবণের ঘাটতি দেখিয়ে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির চক্রান্তের বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই; কক্সবাজার সদর, টেকনাফ, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী এবং পার্শ্ববর্তী বাঁশখালীতে প্রায় ১১ লাখ মেট্রিক টন লবণ মজুদ রয়েছে। অথচ বিসিক কৃত্রিমভাবে ৬ লাখ মেট্রিক টন ঘাটতি দেখিয়ে লবণ আমদানির অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা স্থানীয় লবণের বাজারে ধস নামাবে এবং প্রান্তিক চাষিদের চরম ক্ষতির মুখে ফেলবে।
একই বৈঠকে জেটি ইজারাদারদের যথেচ্ছ আচরণ ও পর্যটন খাতের নৈরাজ্য নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মহেশখালী-কক্সবাজার নৌরুটে যাতায়াতে পর্যটকদের কাছ থেকে ৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত অবৈধ টোল আদায় করা হচ্ছে। এ অনিয়ম বন্ধে বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা প্রশাসকের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করে জেটি টোল সর্বোচ্চ ২০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেন তিনি, এ ২০ টাকা নেয়াটাও ন্যায়ানুগ নয় বলেও জানান তিনি।
এছাড়া, গভীর সমুদ্রবন্দর, কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং এসপিএম-এর মতো মেগা প্রকল্পের এলাকা মহেশখালীতে সৃষ্ট তীব্র যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের জন্য পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এমপি আলমগীর ফরিদ। তিনি অভিযোগ করেন, পর্যপ্ত পুলিশ না থাকায় সাধারণ মানুষকে স্বল্প দূরত্বের পথ অতিক্রম করতেও দীর্ঘ সময় অপচয় করতে হচ্ছে। একই সাথে তিনি দ্বীপাঞ্চলে জিও ব্যাগের মাধ্যমে বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজে চলমান গাফিলতির চিত্রও তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, সংসদ সদস্যের এই দাবির তাৎক্ষণিক প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে মহেশখালীতে ২ জন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে বিকেলে জাতীয়তাবাদী কৃষকদল মহেশখালী উপজেলা শাখা আয়োজিত নেতাকর্মীদের সাথে এক সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন এমপি আলমগীর ফরিদ।
সভায় তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার মূল প্রাণ কৃষক ও লবণ চাষিরা। তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করা এবং যেকোনো সিন্ডিকেট বা হয়রানি প্রতিরোধে কৃষকদলকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।"
কৃষকদলের এই সভায় দলীয় শীর্ষ নেতারা অর্পিত দায়িত্ব পালনসহ সংগঠনকে অধিকতর শক্তিশালী ও গতিশীল করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।