কক্সবাজারের পর্যটনশিল্প নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর ছবি ও নেতিবাচক প্রচারণা নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। পর্যটকদের হোটেল সংকটের চিত্র তুলে ধরতে সৈকতের বালুচরে নারী-শিশুসহ অসংখ্য পর্যটকের রাত কাটানোর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হচ্ছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট অনেকে বলছেন, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তা সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরা সাংবাদিকতার দায়িত্ব। কিন্তু বিচ্ছিন্ন ঘটনা, যাচাই না করা ছবি কিংবা অতিরঞ্জিত উপস্থাপনার কারণে কক্সবাজারের পুরো পর্যটনশিল্প সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হলে তা উদ্বেগের বিষয়। তাঁদের আশঙ্কা, এ ধরনের প্রচারণা পর্যটকদের আগ্রহ ও সম্ভাব্য বিনিয়োগের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব প্রচারণার পেছনে পর্যটক ও বিনিয়োগ ঠেকানোর কোনো পরিকল্পিত উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সে বিষয়ে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার পর্যটন উদ্যোক্তা তান শ্রী সৈয়দ ইউসুফ জোজো, মালদ্বীপের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি ও পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আদিব এবং বাংলাদেশের ভার্সাটিলো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসানের মধ্যে কক্সবাজার-টেকনাফ উপকূলে আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব রিসোর্ট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়। প্রস্তাবিত প্রকল্পটিতে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। এদিকে গত ১৮ অক্টোবর জাপানি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে প্রাথমিকভাবে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এ বিনিয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের কথা আলোচনায় এসেছে। তবে এ বিনিয়োগ পরিকল্পনাও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ও পরবর্তী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগের এসব উদ্যোগ কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো অসত্য তথ্য বা কৃত্রিম ছবি দিয়ে পর্যটনকেন্দ্রটির বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানো হলে তা সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।