বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে এমন কিছু নাম আছে, যাদের প্রভাব সময় ও প্রজন্মের সীমা অতিক্রম করে আজও সমানভাবে অনুভূত হয়। তেমনই এক কিংবদন্তি হলেন মাইকেল জ্যাকসন। আজ ২৫ জুন, বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্ত স্মরণ করছেন পপসংগীতের এই অবিস্মরণীয় তারকাকে তার ১৭তম প্রয়াণবার্ষিকীতে।
১৯৫৮ সালের ২৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়া মাইকেল জ্যাকসন খুব অল্প বয়সেই সংগীতজগতে যাত্রা শুরু করেন। পারিবারিক ব্যান্ড দ্য জ্যাকসন ৫-এর সদস্য হিসেবে পরিচিতি পেলেও পরে একক শিল্পী হিসেবে তিনি হয়ে ওঠেন বিশ্বসংগীতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র।
১৯৬৪ সালে ভাইদের সঙ্গে ‘জ্যাকসন ৫’ ব্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন মাইকেল। শৈশব থেকেই তার ভেতর দেখা গিয়েছিল এক ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভা। এরপর ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করেন একক পথচলা। বিশেষ করে আশির দশকে বিশ্বসংগীতকে একাই শাসন করেছিলেন তিনি। আর তাতেই তার নামের পাশে স্থায়ীভাবে জুড়ে যায় ‘কিং অব পপ’ বা পপসম্রাট উপাধি।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিশ্ববাসীকে তিনি উপহার দিয়েছেন ‘বিট ইট’, ‘বিলি জিন’, ‘থ্রিলার’, ‘আই জাস্ট কান্ট স্টপ লাভিং ইউ’, ‘ব্যাড’, ‘ম্যান ইন দ্য মিরর’, ‘ডার্টি ডায়ানা’, ‘দ্য ওয়ে ইউ মেক মি ফিল’, ‘ব্ল্যাক অর হোয়াইট’, ‘স্ক্রিম’, ‘হিল দ্য ওয়ার্ল্ড’, ‘ইউ আর নট অ্যালোন’, ‘আই উইল বি দেয়ার’, ‘ডেঞ্জারাস’ কিংবা ‘লাভ নেভার ফেল্ট সো গুড’-এর মতো অসংখ্য কালজয়ী গান।
গানের পাশাপাশি তার চোখধাঁধানো নৃত্যশৈলী, মঞ্চের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স আর সিগনেচার ‘মুনওয়াক’ নাচ তাকে যুগের গণ্ডি ছাড়িয়ে এক চিরন্তন সাংস্কৃতিক আইকনে পরিণত করেছে। নতুন সিনেমাটিতে এই গান ও আইকনিক মিউজিক ভিডিওগুলোর পেছনের গল্পও নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
২০০৯ সালের ২৫ জুন মাত্র ৫০ বছর বয়সে পৃথিবীকে বিদায় জানান এই কিংবদন্তি শিল্পী। কিন্তু তার মৃত্যু থামিয়ে দিতে পারেনি তার জনপ্রিয়তা। মৃত্যুর এক যুগেরও বেশি সময় পরও তার গান, নৃত্য ও সৃজনশীলতা নতুন প্রজন্মকে মুগ্ধ করে চলেছে।
মাইকেলের রহস্যময় মৃত্যুর পর জল গড়ায় আদালত পর্যন্ত। কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয় তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক কনরাড মারেকে। আদালতের শুনানিতে জানা যায়, ঘুমের ওষুধ হিসেবে মাইকেলকে অতিরিক্ত মাত্রায় চেতনানাশক ‘প্রোপোফোল’ দিয়েছিলেন মারে, যা তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
২০১১ সালে অবহেলার কারণে অনিচ্ছাকৃত হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন মারে। অবশ্য মারে আদালতে নিজের দায় অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন, মাইকেল নিজেই এই অতিরিক্ত ওষুধ নিয়েছিলেন। তবে আদালত মারের সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি।
মাইকেল জ্যাকসন ছিলেন শুধু একজন গায়ক নন; তিনি ছিলেন একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নাম। তার সুর, কণ্ঠ ও অসাধারণ মঞ্চ উপস্থিতি তাকে অমর করে রেখেছে কোটি মানুষের হৃদয়ে।