রামুর গর্জনিয়া বাজারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য হাত বদলে দ্বিগুণ বেশীতে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৫ টাকা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। ৩০ টাকার শসা বিক্রি হচ্ছে ৫৫/৬০ টাকায়। মুরগি, কবুতর ছানা, মাছ, পশুর মাংসসহ প্রতিটি পণ্য এভাবে মনগড়া বিক্রি হচ্ছে বছরের পর বছর। এ বিষয়ে দ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ চোখে পড়ে না।
স্থানীয় শিক্ষক ফয়জুল হাসান ও পূর্বসীমান্ত মিডিয়া নেটওয়ার্ক নেতা সাঈদুজ্জামান বলেন, বাজারটি ঐতিহ্যবাহি হলেও মানে খুবই অবহেলিত।
জেলার শস্যভান্ডার এলাকায় বাজারটি হলেও কৃষকরা অবহেলিত ও নিষ্পেষিত এখানে ।
কৃষক আবদুল খালেক, সামশুল আলম ও নুরুল হাকিম বলেন, সোমবার এই বাজারে কৃষকরা এক গলিতে বেগুন বিক্রি করল ১৫ টাকায় আর অন্য গলিতে মধ্যসত্ত্বভোগীরা তিন গুণ বেশী দামে । অর্থাৎ হাত বদল হয়ে কৃষকদের শেড দখলকারীরা প্রভাবশালীরা তা বিক্রি করেছে ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকায়। কৃষকরা মূলা বিক্রি করছে ১৫ টাকায়। হাত বদল হয়ে সেই প্রভাবশালীরা শেডে বিক্রি করছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। ঢেঁড়স কৃষকরা বিক্রি করছে ১৫ টাকায় আর শেডে নিয়ে গিয়ে প্রভাবশালীরা তা ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন। কবুতর ছানা মালিক বিক্রি করছে ২৫০ টাকায় আর অসাধু ব্যবসায়ীরা একই জায়গায় বিক্রি করছে ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায়। মাছও একই কায়দায় বিক্রি হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে প্রভাবশালীরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদকারীদের হেনাস্থ করেন।
অপরদিকে, এক ব্যবসায়ী নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,এ বাজারের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। ভোক্তা অধিকারের লোকজন চাঁদা নিয়ে চুপিসারে চলে যায়৷
উপজেলা প্রশাসন বছরে ১/২ বার আসে। লোক দেখানো অভিযান চালান। মূল সমস্যায় হাত দেন না তারা। যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। সরকারের দূর্নাম হয় এতে।
কৃষক শফিক আহমদ, আবদুল জলিল ও হাফেজ আহমদ সহ অনেকে বলেন, কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য গর্জনিয়া বাজারে তাদের জন্যে নির্মিত শেডে বিক্রি করতে পারেন না । কারণ এ শেডগুলো গত ২ যুগ ধরে প্রভাবশালীদের বিপুল টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেন বাজার ব্যবস্খাপনা কমিটি ও ইজারাদার। যা পালাবদল হয়ে দু'যুগ পার হয়ে বর্তমান সরকার পর্যন্ত চলে আসছে -পরিবর্তন হচ্ছে না।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তাদের একাধিকবার ফোন করা হলেও তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।