চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হঠাৎ বিদ্যুতের সুইচবোর্ডে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে মুহূর্তের মধ্যে হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে চিকিৎসাধীন রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জীবন রক্ষার্থে রোগী ও স্বজনরা হুড়োহুড়ি করে ভবন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। রবিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানান, রবিবার দুপুর ১টা ৪৫মিনিটের দিকে ১০০ শয্যার হাসপাতালের ভেতরের প্রধান অংশের বৈদ্যুতিক তারে হঠাৎ শর্টসার্কিট হয়ে সুইচবোর্ডে আগুন ধরে যায়। আগুন লাগার সাথে সাথে হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
আকস্মিক ঘটনায় ইনডোরে চিকিৎসাধীন প্রসূতি মা, শিশু ও গুরুতর অসুস্থ রোগীরা চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েন। অনেকেই অক্সিজেন সিলিন্ডার ও স্যালাইন স্ট্যান্ড হাতে নিয়ে স্বজনদের সহায়তায় দ্রুত নিরাপদ স্থানে এবং খোলা মাঠে চলে আসেন।
হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজন আব্দুর রহমান বলেন, দুপুরের দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে আগুন জ্বলে ওঠে। মুহুর্তের মধ্যে চারদিক ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায়। আমরা ভেবেছিলাম বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। ভয়ে রোগীকে নিয়ে দ্রুত বাইরে খোলা মাঠে চলে আসি। আল্লাহর রহমতে বড় কোনো ক্ষতি হয়নি এবং সবাই নিরাপদে আছেন।
মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা আরেকজন রোগীর স্বজন মালেকা বেগম জানান, আগুন লাগার সাথে সাথে হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সরা শান্ত থাকার জন্য বলেন এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সাহায্য করেন। ওই সময়ে শুরুতে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম,কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় এখন আমরা সবাই ভালো আছি।
ঘটনার পরপরই হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উপস্থিত সাধারণ মানুষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পর দ্রুত ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক লাইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাময়িক আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হলেও বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জয়নুল আবেদীন অনাকাঙ্খিত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোন ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেয়ার জন্য হাসপাতালে ভর্তি রোগী, রোগীর স্বজন এবং চকরিয়া উপজেলার সর্বসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।