জাপানে শুরু হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসের সার্ফিংয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে জাপানে পৌঁছে ভেন্যু ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অনুশীলন শুরু করেছেন বাংলাদেশের দুই সার্ফার-নারী বিভাগে ফাতেমা আকতার ও পুরুষ বিভাগে মো. মান্নান। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও বাতাসের কারণে প্রথম দিনের অনুশীলন হয়েছে সীমিত সময়।
বুধবার সকালে প্রতিযোগিতার ভেন্যুতে গিয়ে আন্তর্জাতিক মানের আয়োজন দেখে মুগ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের সার্ফাররা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞ ও নামকরা সার্ফারদের সঙ্গে একই ভেন্যুতে অনুশীলনের সুযোগকে বড় অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন তারা।
নারী সার্ফার ফাতেমা বলেন, 'জাপানে এসে এখানকার পরিবেশ ও এশিয়ান গেমসের আয়োজন দেখে আমরা খুবই উচ্ছ্বসিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামকরা সার্ফাররা এখানে অংশ নিচ্ছেন। তাদের সঙ্গে একই ভেন্যুতে থাকা, অনুশীলন দেখা এবং সেই পরিবেশের অংশ হতে পারা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। বিশ্বমানের সার্ফারদের কাছ থেকে শেখার সুযোগটিও আমাদের জন্য অনেক বড় অভিজ্ঞতা।'
ফাতেমার প্রিয় সার্ফারদের একজন কানালা গ্রাসি। তাকে আগে টেলিভিশন ও ভিডিওতে দেখেছেন তিনি। জাপানে এসে প্রিয় সার্ফারকে সামনে থেকে দেখা এবং তার সঙ্গে ছবি তোলার অভিজ্ঞতাও আলাদা করে মনে ধরেছে ফাতেমার।
জাপানের সার্ফিং সংস্কৃতি নিয়েও মুগ্ধ ফাতেমা। বিভিন্ন সার্ফিং শপ ঘুরে সরঞ্জাম ও সুযোগ-সুবিধা দেখেছেন তিনি। তার ভাষায়, বাংলাদেশের তুলনায় জাপানের সার্ফিং সংস্কৃতি ও সুযোগ-সুবিধা অনেক উন্নত। সেখান থেকে শেখার চেষ্টা করছেন তারা।
তবে বুধবার অতিরিক্ত বাতাসের কারণে ঢেউ সার্ফিংয়ের জন্য পুরোপুরি অনুকূলে ছিল না। ফলে দীর্ঘ সময় অনুশীলন করতে পারেননি বাংলাদেশের দুই সার্ফার। প্রতিযোগিতার বিচ ঘুরে পরিবেশ ও ঢেউ সম্পর্কে ধারণা নিয়েছেন তারা।
পুরুষ সার্ফার মো. মান্নান বলেন, 'জাপানে এসে এখানকার পরিবেশ এবং এশিয়ান গেমসের আয়োজন দেখে সত্যিই ভালো লাগছে। এত বড় পরিসরে এবং সুন্দরভাবে একটি প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে, যা আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। ট্রেনিংয়ের জন্য আলাদাভাবে সার্ফিংয়ের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, আবার প্রতিযোগিতার হিটের জন্যও আলাদা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।'
ভেন্যুর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থাপনাও মুগ্ধ করেছে মান্নানকে। অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড দেখিয়ে নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশ করতে হচ্ছে। অনুমতি ছাড়া বাইরের কেউ ভেন্যুতে প্রবেশ করতে পারছেন না। তার মতে, পুরো ব্যবস্থাপনাই অত্যন্ত গোছানো ও সুশৃঙ্খল।
প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও অনুশীলন করেছেন মান্নান। তিনি বলেন, 'আবহাওয়া কিছুটা বৈরী ছিল। ঢেউও ছোট ছিল। তার মাঝেও অনেকক্ষণ অনুশীলন করেছি। আশা করি, বৃহস্পতিবার আবহাওয়া ভালো হবে এবং সার্ফিং উপযোগী ঢেউ পাওয়া যাবে।'
বাংলাদেশ সার্ফিং দলের টিম অফিসিয়াল ও কোচ মো. সাইফুল্ল্যাহ সিফাত জানান, বুধবার ছিল জাপানে বাংলাদেশ সার্ফিং দলের দ্বিতীয় দিন। সকালে প্রতিযোগিতার ভেন্যুতে গিয়ে নির্ধারিত স্থান, ড্রেসিং রুম ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন তারা। হোটেল থেকে ভেন্যুতে যাতায়াতের জন্য নির্দিষ্ট সময় পরপর দলের জন্য বাসের ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে আবহাওয়ার কারণে অনুশীলনে কিছুটা সমস্যা হয়েছে বলে জানান সিফাত। প্রচণ্ড বাতাসের কারণে ঢেউয়ের অবস্থা ভালো ছিল না। ফলে সব দলই সীমিত সময় পানিতে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছে।
জাপানের ঢেউয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের আনা বোর্ড পুরোপুরি মানিয়ে নিতে কিছুটা সমস্যা হওয়ায় নতুন বোর্ড কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার কয়েকটি সার্ফিং শপ ঘুরে খেলোয়াড়দের জন্য লিশ, ওয়াক্সসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। পছন্দ হয়েছে কয়েকটি বোর্ডও। বৃহস্পতিবার নতুন বোর্ড নিয়ে অনুশীলনে নামার আশা করছে বাংলাদেশ দল।
সিফাত বলেন, 'বাংলাদেশ থেকে যে প্রত্যাশা নিয়ে এসেছি, ইনশাআল্লাহ জাপানের ঢেউ ও সার্ফিংয়ের মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভালো প্রস্তুতি নিয়ে দেশের জন্য নতুন কিছু অর্জন করতে পারব।'
বৃহস্পতিবার টিম অফিসিয়াল, টিম ম্যানেজার ও কোচদের আনুষ্ঠানিক সভা হবে। সেখানে কোন খেলোয়াড় কোন হিটে অংশ নেবেন, হিটের সময়সূচি, প্রতিযোগিতার নিয়মকানুন, জাজদের নির্দেশনাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জানানো হবে। আবহাওয়ার কারণে সূচিতে কোনো পরিবর্তন এলে সেটিও সভায় জানানো হবে।
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রথম অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রতিযোগিতার আগে যতটা সম্ভব প্রস্তুতি নিতে চান বাংলাদেশের দুই সার্ফার। দেশের প্রতিনিধিত্ব করে ভালো কিছু করার প্রত্যাশা নিয়েই জাপানের ঢেউয়ে নিজেদের প্রস্তুত করছেন ফাতেমা ও মান্নান।