মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। এ পরিবেশ তৈরি করা সহজ হবে না। পাশাপাশি কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ। বৈঠকে মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ এসব কথা জানিয়েছেন বলে জানান শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে বাংলাদেশে এসেছেন জুলি বিশপ। সফরের অংশ হিসেবে ঢাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সচিব, পররাষ্ট্রসচিব এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনা করেছেন তিনি। এরপর কক্সবাজারে এসে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন।
মো. মিজানুর রহমান আরও বলেন, জুলি বিশপ রোহিঙ্গা শিবিরে বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল নয় বলে তিনি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উখিয়ার কয়েকটি রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন জুলি বিশপ ও তাঁর সফরসঙ্গীরা। এ সময় তাঁরা রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা, শিক্ষা, জীবিকায়ন, নারীদের পরিস্থিতি ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের খোঁজ নেন।
সফরের শুরুতে প্রতিনিধি দলটি ক্যাম্প-৪-এর একটি শিক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করে। পরে ভূমিধস প্রতিরোধ ও স্থিতিশীলতা কার্যক্রম পরিচালিত এলাকা ঘুরে দেখে চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেয়।
এরপর ক্যাম্প-১৭-তে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সুরক্ষাবিষয়ক একটি গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন জুলি বিশপ। আলোচনায় নতুন করে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের সমস্যা, সুরক্ষার চ্যালেঞ্জ ও নাগরিক পরিসর-সংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
প্রতিনিধি দলটি ক্যাম্প-২০-তে সাবান উৎপাদনভিত্তিক জীবিকায়ন কার্যক্রমের একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প পরিদর্শন করে। ক্যাম্প-২ই-তে নারীদের মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ও এ-সংক্রান্ত জীবিকায়ন কার্যক্রম ঘুরে দেখে। এ ছাড়া ক্যাম্প-২ডব্লিউতে একটি নারী কেন্দ্র পরিদর্শন করে রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে দলগত আলোচনায় অংশ নেয় প্রতিনিধি দলটি। সেখানে নারীদের অভিজ্ঞতা, প্রয়োজন ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের বিষয় উঠে আসে।
জুলি বিশপের সঙ্গে এ সময় ছিলেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোরে-স্মেরেজনিয়াক, বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেইসনি, মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূতের কার্যালয়ের রাজনৈতিক বিষয়ক কর্মকর্তা ডানকান উইলসন এবং সহযোগী জনসংযোগ কর্মকর্তা পায়ে থেট চায়েল।
ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে বিকেলে কক্সবাজার শহরে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন জুলি বিশপ ও তাঁর সফরসঙ্গীরা।