কক্সবাজার–টেকনাফ মহাসড়কে মাইক্রোবাসের ওপর শতবর্ষী একটি বটগাছ উপড়ে পড়ে চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মাইক্রোবাসের চালক ও স্থানীয় তিনজন রয়েছেন। দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। পরে গাছটি সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কানজর পাড়া বাইন্যা টোড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকে টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যে কক্সবাজারগামী একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে টেকনাফগামী একটি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর মাইক্রোবাসটি সড়কের পাশে একটি বটগাছের নিচে থামে। এ সময় অতিবৃষ্টিতে নরম হয়ে যাওয়া মাটি থেকে গাছটি শেকড়সহ উপড়ে মাইক্রোবাসটির ওপর পড়ে।
আহত চালকের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, মাইক্রোবাসটিতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর কর্মীরা ছিলেন। আহত স্থানীয়রা হলেন হোয়াইক্যং কানজর পাড়ার সালাহ উদ্দিন (২২), ইব্রাহিম (৩০) এবং অপর একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহ জালাল বলেন, ঘটনাটি তাঁর বাড়ির সামনেই ঘটেছে। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে গাছটির গোড়া দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এর সঙ্গে প্রবল বাতাস থাকায় গাছটি উপড়ে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম (সিপিপি) এর স্বেচ্ছাসেবক এবং বিজিবির সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
স্থানীয় সিপিপির সদস্য মো. ফারুক বলেন, খবর পেয়ে স্বেচ্ছাসেবকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাইক্রোবাসের ভেতরে আটকে পড়া চালককে উদ্ধার করেন। পরে সড়কের ওপর পড়ে থাকা গাছটি কেটে সরিয়ে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
হোয়াইক্যং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আবসার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মাইক্রোবাসটি পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়েছে। আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।