কক্সবাজারকে নিরাপদ পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এবং ব্যবসা পরিচালনায় জটিলতা নিরসনে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার’ চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে পর্যটন প্রসারের স্বার্থে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) আইন শিথিল করার সুপারিশ করেছেন তারা। ব্যবসায়ীদের এই দাবির সাথে একমত পোষণ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে সুপারিশের জন্য একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শনিবার দুপুরে কক্সবাজার ইনস্টিটিউট ও পাবলিক লাইব্রেরির শহিদ সুভাষ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতকরণে হোটেল-মোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক ও অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় সভায়’ এসব বিষয় উঠে আসে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় হোটেল-রিসোর্ট ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান ব্যবসায়ীদের পক্ষে মূল সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কক্সবাজারে ব্যবসা করতে গেলে ইসিএ আইন এবং সরকারি অন্তত ১৭টি সংস্থার ছাড়পত্রের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়। পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) অনুমোদন পাওয়া যায় না, আর কউকের অনুমোদন ছাড়া অন্য কোনো অনুমোদন মেলে না। এই জটিলতা থেকে পরিত্রাণ পেতে উপস্থিত ৪ শতাধিক ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ইসিএ আইন শিথিল বা বাতিল এবং দ্রুত ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালুর দাবি জানান।
ব্যবসায়ীদের দাবির সাথে সহমত প্রকাশ করে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, "নিরাপদ পর্যটন নগরী গড়ে তুলতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার অপরিহার্য, যেন স্টেকহোল্ডাররা সহজে সেবা পান। পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে ইসিএ আইনকেও শিথিল করা প্রয়োজন।"
ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানান, ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার বাস্তবায়নে প্রতিটি সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধি নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং তাদের সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তবে অনুমোদনের বিষয়ে ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহ থেকেই যেসব প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম অনুমোদন নেই, সেগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
সভায় পর্যটন এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়। কক্সবাজার জেলা জজ আদালতের সাবেক পিপি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের প্রেমিকের সঙ্গে হোটেলের কক্ষ দেওয়া যাবে না। মা-বাবার সাথে ছাড়া এমন ক্ষেত্রে কক্ষ দেওয়া আইনত অপরাধ। সম্প্রতি কুমিল্লা থেকে আসা ১৩ বছরের শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার আগে ভুয়া তথ্যে হোটেলে থাকার ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, এমন নিয়ম অমান্য করলে হোটেল মালিক ও ম্যানেজারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান পর্যটন শিল্পের ভাবমূর্তি রক্ষায় অপপ্রচার রোধ এবং কক্সবাজারের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন এবং হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে ৫ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় কক্সবাজারে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়া নতুন করে আলোচনায় এসেছে।