সার্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫।
পূজামণ্ডপগুলোতে নিয়মিত দৃশ্যমান টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং রিজার্ভ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে টেকনাফ পৌরসভা কেন্দ্রীয় বিষ্ণু মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন কক্সবাজার এসআরবি-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার মো. মাহমুদুল রহমান।
পরিদর্শনকালে তিনি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা এবং উৎসবের পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পরে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় করেন। এ সময় কেক কেটে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এসআরবি অধিনায়ক।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন এসআরবি-১৫-এর সিপিসি-১-এর অধিনায়ক, টেকনাফ থানা পুলিশের সদস্য, টেকনাফ পৌরসভা কেন্দ্রীয় বিষ্ণু মন্দিরের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এসআরবি-১৫ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার মো. মাহমুদুল রহমান বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতির এক অখণ্ড অংশ এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার মিলনমেলা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এই উৎসব আমাদের সামাজিক সৌহার্দ্যকে আরও সুদৃঢ় করে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় এসআরবি সদস্যদের নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।
নিরাপত্তার বিষয়ে এসআরবি অধিনায়ক আরও বলেন, উৎসবকে কেন্দ্র করে কেউ যদি নাশকতার পরিকল্পনা করে, তাহলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসআরবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের ফলে টেকনাফের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা টেকনাফে শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে এসআরবি-১৫, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। উৎসবের শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।