বর্তমানে সরকার মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে, নিজ নির্বাচনী আসনের রাস্তাঘাট সংস্কার এবং গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের সূচনা করেছেন কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু, ঈদগাঁও) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল। শপথ গ্রহণের পর থেকেই তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন এবং স্থানীয় জনগণের সাথে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারি বরাদ্দ সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন, তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, ধর্মীয় উপাসনালয়ের সংস্কার এবং সর্বোপরি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
এমপি কাজলের দাপ্তরিক সূত্র জানায়, আর্থিক অনুদানের অনুকূলে বিগত মাত্র তিন মাসে কক্সবাজার পৌরসভা, সদর, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলার সুবিধাভোগী ৬৩৫টি প্রান্তিক পরিবারের মাঝে ২৮ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকার ক্ষুদ্র আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। একই সাথে গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কাবিখা খাদ্যশস্য (চাল/গম) কর্মসূচির আওতায় ৮৬ মে. টন চাল এবং ৮৮ মে. টন গম বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, তৃণমূলের টেকসই উন্নয়নের ধারাকে গতিশীল করতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে পরিচালিত সিএসআইডিপি প্রকল্পের ৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাবিটা প্রকল্পের (তিন কিস্তিতে) ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পের ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ৫ অনুদানের ৪১ লাখ টাকা এবং এডিপি প্রকল্পের ১ কোটি ৬ লাখ টাকাসহ সর্বমোট ১১ কোটি ৪৯ লাখ ৩ হাজার টাকার একটি বিশাল তহবিল সুনির্দিষ্ট কিছু জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে বিন্যাস করা হয়েছে।
এই বিশেষ বরাদ্দের আওতায় নির্বাচনী এলাকার ১২৩টি মসজিদ, ৫৮টি কবরস্থান, ৩৯টি মন্দির, ২২টি বৌদ্ধ বিহার, ৩৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১৯টি সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং ৪৩টি গ্রামীণ সড়ক সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঈদগাঁও উপজেলার থানা থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সি সি ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবেদনের প্রেক্ষিতে এসব ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন এমপি লুৎফুর রহমান কাজল।
ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার বলেন, 'থানার সামনে, ঈদগাঁও বাজার, আদর্শ স্কুল থেকে শুরু করে সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।'
তিনি বলেন, 'এমপির সহায়তায় ক্যামেরাগুলো বসানো হলে নিরাপত্তা বৃদ্ধি, অপরাধ দমন এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা হবে। দৃশ্যমান সিসি ক্যামেরা দেখলে অপরাধীরা ওই এলাকায় অপরাধ করতে ভয় পায়। জনগণের সেবা দিতে আমরা সবসময় প্রস্তুুত আছি।'
এছাড়া সংসদ সদস্য নিজ নির্বাচনী এলাকায় বেকারত্ব কমিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি তাঁর পূর্বঘোষিত অঙ্গীকার অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর পিতার স্মৃতিবিজড়িত পিএমখালীর মাছুয়াখালীর পাতলী খাল খনন কর্মসূচি পরিদর্শনে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে কোদাল হাতে নিয়ে প্রতীকী খাল খননের মাধ্যমে এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ওই অনুষ্ঠানে এমপি কাজল তাঁর বক্তব্যে খেটে-খাওয়া ও ভূমিহীন মানুষের স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবি তোলে ধরেন। বলেন, 'সরকারি খাস জমিতে বসবাসরত ভূমিহীন মানুষকে স্থায়ী পুনর্বাসন না করে কোনোভাবেই উচ্ছেদ করা যাবে না। একই সাথে বাঁকখালী নদীর দুই তীরে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, কৃষকের ফসল রক্ষা করা এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রান্তিক মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড বিতরণের জোরালো দাবি জানান তিনি। তাঁর এই বক্তব্যে সেদিন মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।'
পরবর্তীতে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট কক্সবাজার-৩ সংসদীয় এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রেীকরণ ও বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিকাশের লক্ষ্যে ১০ দফা সংবলিত একটি আধা-সরকারি পত্র হস্তান্তর করেন এমপি কাজল। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গভীর মনোযোগের সাথে তাঁর এই উন্নয়ন প্রস্তাবনাগুলো শোনেন এবং এই অঞ্চলের সামগ্রিক ভূ-অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে তা দ্রুত বাস্তবায়নের ইতিবাচক আশ্বাস প্রদান করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (২২ জুন ) জাতীয় সংসদে স্পিকার কর্তৃক নির্ধারিত ৬ মিনিটের বাজেট বক্তৃতায় এমপি লুৎফুর রহমান কাজল কক্সবাজারের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে মহান সংসদের সামনে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবনাসমূহের মধ্যে রয়েছে- সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু ও ব্লু ইকোনমি (নীল অর্থনীতি) গবেষণা ভিত্তিক একটি বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, ঐতিহ্যবাহী কক্সবাজার পৌরসভাকে দেশের অন্যতম প্রধান সিটি কর্পোরেশনে উন্নীতকরণ এবং পর্যটন খাতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য একটি কার্যকর 'ওয়ান স্টপ সার্ভিস' চালু করা। এছাড়া লবণ চাষীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, যথাযথ সংরক্ষণ ও বিপণন সহায়তার লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র 'লবণ বোর্ড' গঠনের দাবি জানান তিনি। একই সাথে রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নকে পৌরসভায় উন্নীত করার পাশাপাশি উপজেলার পূর্বাঞ্চলীয় ইউনিয়নগুলো নিয়ে নতুন 'বাঁকখালী উপজেলা' গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন।
যোগাযোগ ও নাগরিক সুবিধার আধুনিকায়নে তিনি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে পর্যায়ক্রমে ৬ লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলায় দ্রুত প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, আধুনিক ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন এবং একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন। একই সাথে জেলার স্বনামধন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার সিটি কলেজ এবং ঈদগাঁও রশীদ আহমদ কলেজকে দ্রুত সরকারি করার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান এমপি লুৎফুর রহমান কাজল।