কক্সবাজারের টেকনাফে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো করা ১০ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫)। এ সময় মানবপাচার চক্রের এক সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইট্যংপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল' অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃত মানবপাচারকারীর নাম আব্দুল আমিন (২২)। সে টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইট্যংপাড়া (পিএইচপি বরফ কলের পিছনে) এলাকার নূর মোহাম্মদের ছেলে।
র্যাব জানায়, একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র প্রলোভন দেখিয়ে এবং জোরপূর্বক কয়েকজন বাংলাদেশি নারী ও পুরুষকে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাচারের জন্য নাইট্যংপাড়া এলাকায় জড়ো করেছে- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৫, সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প)-এর একটি আভিযানিক দল সেখানে অভিযান চালায়।
নাইট্যংপাড়ার পিএইচপি বরফ মিলের পাশে জনৈক হাবিবুল্লাহর বাড়ির সামনে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া দিয়ে পাচারকারী চক্রের সদস্য আব্দুল আমিনকে আটক করতে সক্ষম হয় র্যাব সদস্যরা। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে পাচারের শিকার ১০ জন ভুক্তভোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করে র্যাবের হেফাজতে নেওয়া হয়।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত আব্দুল আমিন স্বীকার করেছে যে, সে এবং তার পলাতক সহযোগীরা মিলে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ওই ভুক্তভোগীদের অবৈধভাবে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো করেছিল। উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীরাও জানান, তাদেরকে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাঠানোর জন্য সেখানে আনা হয়েছিল।
সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক জানান, উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগী এবং আটক আসামির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদেরকে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ চক্রের পলাতক অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধে জনসাধারণকে সচেতন থাকারও আহ্বান জানায় র্যাব।