শিপন পাল
কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশন সম্প্রসারণের প্রস্তাবিত এলাকার একটি তথ্যপত্র সামনে এসেছে। এতে কক্সবাজার পৌরসভা ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ইউনিয়নের নির্দিষ্ট এলাকা এবং সংশ্লিষ্ট ১১টি মৌজার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারের নগর এলাকার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তথ্যপত্রে কক্সবাজার সদর, রামু ও কক্সবাজার সদর উপজেলার আওতাধীন কয়েকটি ইউনিয়নের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন, খুরুশকুল ইউনিয়ন, ঝিলংজা ইউনিয়ন ও পিএমখালী ইউনিয়নসহ প্রস্তাবিত সম্প্রসারিত এলাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে।
তথ্যপত্র অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সম্প্রসারিত এলাকার মোট আয়তন ১৬৯ দশমিক ৬৪ বর্গকিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসংখ্যা ৪ লাখ ৮ হাজার ৭২৯ জন; বর্তমানে এ সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ ৮০ হাজারের কাছাকাছি বলে তথ্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত এলাকার তালিকায় কক্সবাজার পৌরসভা ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নের অংশ অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার সদর ও ঝিলংজা (পৌর অংশ), উমখালী (সম্পূর্ণ), দক্ষিণ মিঠাছড়ি (সম্পূর্ণ), চেইন্দা (সম্পূর্ণ), ধেছুয়াপাল (সম্পূর্ণ), খুরুশকুল (সম্পূর্ণ), তেতৈয়া (সম্পূর্ণ), ঝিলংজা ইউনিয়ন অংশ, খরুলিয়া (সম্পূর্ণ), পিএমখালী (সম্পূর্ণ) ও তোতকখালী (সম্পূর্ণ) মৌজার নাম রয়েছে।
প্রস্তাবিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কক্সবাজার পৌরসভার আয়তন ৩২ দশমিক ৪০ বর্গকিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী পৌরসভার জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮৫ জন। এর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নগুলোর প্রস্তাবিত সম্পূর্ণ বা নির্ধারিত এলাকা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত তালিকায় দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের আয়তন ১৮ বর্গকিলোমিটার এবং ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ৩১ হাজারের বেশি দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে খুরুশকুল ইউনিয়নের আয়তন ২৩ দশমিক ৬৭ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ৫৪ হাজার। ঝিলংজা ইউনিয়নের আয়তন ২০ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার ৯২১ জন। পিএমখালী ইউনিয়নের আয়তন ২৭ দশমিক ২৫ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার ৮০০ জন উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্যপত্রে প্রস্তাবিত সম্প্রসারিত এলাকার মোট আয়তন প্রায় ১৬৯ বর্গকিলোমিটার এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার ২০২২ সালের জনশুমারি-ভিত্তিক মোট জনসংখ্যা প্রায় ৪ লাখের বেশি বলে উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কক্সবাজার দ্রুত বর্ধনশীল একটি পর্যটননগরী। প্রতিনিয়ত নতুন আবাসিক এলাকা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠছে। ফলে পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার জন্য পৌর এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও সম্প্রসারণ সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “কক্সবাজার শহরের পরিধি অনেক বেড়েছে। শহরের সঙ্গে আশপাশের ইউনিয়নগুলোর যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও এখন অনেক বেশি। তাই নগর পরিকল্পনার আওতায় এসব এলাকাকে আনা হলে নাগরিক সেবা আরও সমন্বিত হতে পারে।”
অন্যদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, শুধু এলাকা সম্প্রসারণ করলেই হবে না; নতুন এলাকার মানুষের নাগরিক অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত বাজেট, জনবল এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, কক্সবাজারের মতো পর্যটননির্ভর শহরের সম্প্রসারণ হতে হবে পরিকল্পিতভাবে। অপরিকল্পিত আবাসন, জলাবদ্ধতা, যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ নগর কাঠামো নির্ধারণ করা জরুরি।
প্রস্তাবিত তথ্যপত্রে উল্লেখিত এলাকাগুলো বাস্তবে কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এলে এটি শুধু প্রশাসনিক সীমানা সম্প্রসারণ হবে না, বরং কক্সবাজারের ভবিষ্যৎ নগর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কক্সবাজার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটননগরী। শহরের সঙ্গে আশপাশের ইউনিয়নগুলোর অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দিন দিন ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যৎ নগর ব্যবস্থাপনার জন্য বৃহত্তর এলাকা নিয়ে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহলের বক্তব্য, শুধু সিটি কর্পোরেশনের সীমানা সম্প্রসারণ করলেই হবে না; নতুন অন্তর্ভুক্ত এলাকার মানুষের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা, সড়কবাতি ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, প্রস্তাবিত এলাকার মানুষকে নগর ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। তবে নতুন এলাকার মানুষের মতামত, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও নাগরিক সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এখন দেখার বিষয়, প্রস্তাবিত সম্প্রসারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হয় এবং কক্সবাজারকে একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব নগরীতে রূপ দিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।