কুতুবদিয়ায় সম্ভাবনাময় পর্যটন বিকাশে উদ্দেশ্যে হাতে নেওয়া প্রকল্পটি ভেস্তে গেছে। সুস্থ বিনোদন বঞ্চিত দ্বীপে ২৫ কিলোমিটার জুড়ে সমুদ্র সৈকত থাকলেও সৌন্দর্য বর্ধন বা উন্নয়নে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
সাত বছর আগে ২০১৮ সালে সাবেক নির্বাহী অফিসার সুজন চৌধুরী থানার পুকুর ঘেঁষে ভূমি অফিসের সামনে 'সিটিজেন পার্ক' নাম দিয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেন। সেখানে বলাকা পানির ফোয়ারা, গেইট, দেয়াল পোষ্টার, জীবজন্তুর ম্যুরাল, মাছ, ফল ইত্যাদির ভাষ্কর্য তৈরি করা হয়।
একই সাথে বড়ঘোপ ষ্টীমারঘাটে দৃষ্টিনন্দন বসার স্থান, ডলফিন ভাষ্কর্য নির্মাণ করা হয়। দুই জায়গায় প্রায় ২০টি ভাষ্কর্য নির্মাণে কয়েক দফায় প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়। পরে অজ্ঞাত কারণে প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশেষ বিশেষ দিনে নারী- শিশুরা সিটিজেন পার্কে বেড়াতে আাসা শুরু করে।
নিজের শিশুকে নিয়ে বেড়াতে আসা এনজিও কর্মী উম্মে খাইরুনেছা উর্মী বলেন, মাঝে মধ্যেই সিটিজেন পার্কে বেড়াতে আসা হয়। বাচ্চারা ম্যুরালের পাশে ছবি তোলে। অযত্নে জীববৈচিত্র্যের অনেকগুলো ভেঙে গেছে। রং উঠে গেছে। সৌন্দর্য নেই বর্তমানে। এগুলোর সংস্কার হলে অন্তত স্থানীয় পর্যটকেরা নিয়মিত আসবে বলে তিনি মনে করেন।
অযত্নে অবহেলায় ম্যুরালগুলোর বেশ কয়েকটা ভেঙে গেছে। বাকিগুলোর রং উঠে গেছে অনেক আগেই। বিগত সাত বছরে কয়েকজন নির্বাহী অফিসার এসেছেন। কিন্তু কেউ পর্যটন বিকাশে প্রকল্পটি এগিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেননি।
ফলে বিনোদনের কেন্দ্রটি বেহাল অবস্থায় পরে আছে।
প্রকল্পে ভাষ্কর্য তৈরির কারিগর মাহাবু বলেন, বলাকা পানির ফোয়ারায় বিদ্যুৎ,পানির লাইন আছে। সংযোগে মটর চুরি হওয়ার পর আর কেউ উদ্যোগী হননি। ম্যুরালগুলোতে রং করা, ভেঙে পরা ভাষ্কর্য মেরামত, আরো কিছু নতুন নির্মাণ করা গেলে ফের চাঞ্চল্য ফিরে আসবে সিটিজেন পার্কের।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, সিটিজেন পার্কের জন্য আলাদা কোন প্রকল্প নেই। নতুন শিশু পার্ক নির্মাণে একটি প্রকল্প হাতে রয়েছে। কাজ শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে। তবে সিটিজেন পার্ক ও স্টীমারঘাটে ক্ষতিগ্রস্থ ম্যুরাল সংস্থার করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।