আগামী ৯ আগস্ট (রবিবার) এক নিবিড় ও ব্যস্ত সরকারি সফরে কক্সবাজারের মহেশখালী এবং চট্টগ্রাম যাচ্ছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মহেশখালীতে এটিই তাঁর প্রথম সফর।
এই সফরে তিনি মহেশখালীর অন্যতম মেগা প্রকল্প মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনের পাশাপাশি চট্টগ্রামের বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন কর্মসূচি, শীর্ষ আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ এবং গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-০১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত ৪ আগস্ট জারি করা সর্বশেষ সরকারি পত্র এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর নিশ্চিতকরণ সূত্রে এই সফরের চূড়ান্ত বিস্তারিত তথ্য জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের স্থানীয় প্রশাসন এবং দলীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
# মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ও মেগা প্রকল্প পরিদর্শন:
সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাসভবন থেকে সড়কপথে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখান থেকে ঠিক সকাল ৯টায় হেলিকপ্টারযোগে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।
সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে তিনি সেখানে উপস্থিত হবেন। এরপর তিনি দেশের অর্থনীতির গেম-চেঞ্জার হিসেবে পরিচিত মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা)-এর কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। এ সময় তিনি মেগা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের সাথে মতবিনিময় করবেন বলেও আশা করা হচ্ছে।
# বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন ও নতুন ঘর হস্তান্তর:
মহেশখালী পরিদর্শন শেষে দুপুর ১২টায় তিনি হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। জানা গেছে, সরকারি সহায়তায় পুনর্নিমাণ করা নতুন বাড়ি ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সরাসরি হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
# শীর্ষ আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ ও কবর জিয়ারত:
বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় আলেম সমাজের সাথেও মিলিত হবেন। দুপুর ১টা ১০ মিনিটে তিনি অনুষ্ঠানস্থল থেকে ফটিকছড়ি উপজেলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে ফটিকছড়ি উপজেলার পেহেলগাজী দিঘির মাঠে অবতরণ করবেন এবং আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। দুপুর ২টায় তিনি মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে আল্লামা শাহ্ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী’র সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
এরপর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে তিনি হাটহাজারী উপজেলার আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে সড়কপথে যাত্রা করবেন। বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে মাদ্রাসায় উপস্থিতি এবং হেফাজতে ইসলামের প্রয়াত আমির মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফী’র কবর জিয়ারত করবেন। বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে তিনি জেলা পরিষদ ডাক বাংলো, হাটহাজারীতে উপস্থিতি ও সাময়িক বিরতি নেবেন।
# হাটহাজারীতে বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন সভা:
ডাক বাংলোতে বিরতির পর, বিকেল ৫টায় তিনি হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে যাবেন। সেখানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত একটি বড় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে তিনি দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেবেন এবং তাদের মাঝে ত্রাণ ও সহায়তা বিতরণ করবেন।
# সাংগঠনিক সভা ও ঢাকায় প্রত্যাবর্তন:
হাটহাজারীর কর্মসূচি শেষে তিনি চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করবেন। সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে নগরীর র্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম, বে ভিউ হোটেল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত একটি বিশেষ সাংগঠনিক সভায় যোগ দিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দিনব্যাপী এই দীর্ঘ ও ব্যস্ত সফর শেষে রাত ৯টা ২০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। রাত ১০টা ১০ মিনিটে বিমানবন্দরে উপস্থিতি ও বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন এবং রাত ১০টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবেন। এটি সম্পূর্ণ সরকারি সফর হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ তাঁর সফরসঙ্গী হবেন।
# মহেশখালীবাসীর দাবি ও স্থানীয় প্রস্তুতি:
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "এটি কোনো জনসভা নয়, বরং সম্পূর্ণ অফিশিয়াল ভিজিট। আমাদের এই মেগা প্রকল্পগুলো শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি ইকোনমিক হাব।" এ সময় তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে মহেশখালীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি- 'কক্সবাজারের সাথে সংযোগকারী মহেশখালী সেতু' নির্মাণের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।
# প্রশাসন ও দলীয় প্রস্তুতি:
সফরের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করছেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন জানান, "প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। সফরসূচি অনুযায়ী আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।"
এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে দলীয়ভাবেও ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে আমাকে ও সদস্য সচিবকে প্রধানমন্ত্রীর গুলশান কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিল। দলীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আমরা ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।"