ক্রমাগত অবনতি হওয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে অবশেষে হার্ডলাইনে নেমেছে জেলা পুলিশ। রুটিন করে ছক কষে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে প্রতিদিনই চালানো হচ্ছে অভিযান। এতে সফলতাও পরিলক্ষিত হচ্ছে। সদর থানা পুলিশ গত দশ দিনে ২০০ জনের মত চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও বিভিন্ন অস্ত্র মামলার আসামি আটক করতে সমর্থ হয়েছে। চিহ্নিত, দাগী এসব ছিনতাকারী, হত্যা মামলার পলাতক আসামি ধরতে প্রতিদিনই অভিযান চালাচ্ছে কক্সবাজার মডেল থানা। চলতি মাসের সদর মডেল থানার অভিযানের সফলতার কথা উঠে এসেছে গতকাল ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটিতে। তবে এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্য পুলিশ সুপারের কাছে আরো ভূমিকা প্রত্যাশা করেন জেলাবাসী।
গত জুলাই এবং আগস্ট মাসে কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে সুধীমহলে। দুই মাসে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি হওয়ায় জেলা পুলিশ নড়েচড়ে বসে। বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয় যেকোনো মূল্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে। নির্দেশনা অনুযায়ী ক্রমাগত অভিযানের কারণে ধরা পড়ছে দাগি আসামি, দুর্ধর্ষ ছিনতাকারী থেকে শুরু করে হত্যা মামলার আসামিরা। তবে এর আরো অগ্রগতি চেয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিং এ পুলিশ সুপারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন উপস্থিত সুধীজন।
গতকাল অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিং এ পুলিশ সুপার আনম সাজেদুর রহমান জুন ও জুলাই মাসের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে চিত্র তুলে ধরেন তা চরম উদ্বেগজনক। তবে তিনি চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই জেলা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাস দেন।
পুলিশ সুপার আ ন ম সাজেদুর রহমান জানান-কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার তৎপরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা সহ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে । জুলাই মাসে ১২০ টি, জুন মাসে ৫৩ টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে জেলা পুলিশ। তবে জুন মাসের চেয়ে জুলাই মাসে ৬৭টি অবৈধ অস্ত্র বেশি উদ্ধার করেছে পুলিশ এমনটাই তিনি জানান। অস্ত্রগুলোর মধ্যে রাইফেল, বন্দুক, পিস্তল, শাটারগান, কার্তুজ রয়েছে।
আগস্ট মাসের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক মাদকবিরোধী অভিযান সংক্রান্ত তথ্য এখনো হালনাগাদ করা হয়নি বলে তিনি জানান। তবে তিনি জুলাই মাসের পুলিশের ৭টি সংস্থা কর্তৃক চোরাচালান বিরোধী নিয়মিত অভিযান, বিভিন্ন আসামি আটক, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ইত্যাদি নিয়ে জুলাই মাসের একটি পরিসংখ্যান জেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিং এ উপস্থাপন করেন।
জেলা পুলিশের জুলাই মাসের অভিযান সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী জেলায় বিভিন্ন অপরাধে ১৪৬ টি মামলা রুজু করা হয়েছে। বিভিন্ন মামলায় আটক করা হয়েছে ১৯১ জন আসামি। এরমধ্যে জেলা পুলিশ মামলা দিয়েছে ৪৯ টি, আটক করেছে ৭২ জন। এপিবিএন কর্তৃক মামলা রজু করেছে চারটি, গ্রেফতার করেছে চার জন। হাইওয়ে পুলিশ কর্তৃক জুলাই মাসে মামলা দিয়েছে ১টি, গ্রেফতার করেছে একজন। বিজিবি কর্তৃক মামলা রুজু করেছে ৫৪ টি, আটক করা হয়েছে ৬১ জনকে। র্যাব ১৫ কর্তৃক মামলা হয়েছে ৯টি, আটক করা হয়েছে ১২ জনকে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক মামলা রজু করা হয়েছে ১৯ টি, আটক করা হয়েছে ২৯ জনকে। এছাড়া কোস্টগার্ড কর্তৃক মামলা রজু হয়েছে দশটি, আটক করা হয়েছে ১২ জনকে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ইয়াবা, দেশি মদ, গাঁজা, বিয়ার ও বিদেশী মদ।
এদিকে কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী জানান- কক্সবাজার যেহেতু পর্যটন নগরী এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তা গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সেপ্টেম্বর থেকে কক্সবাজার শহর এবং সদরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে কক্সবাজার মডেল থানা পুলিশ। সেপ্টেম্বর মাস জুড়েই থাকবে সাঁড়াশি অভিযান। গেল ১০ দিনে ২০০ জন ছিনতাইকারী, মাদকসেবী এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত দাগী আসামীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। দূর্ধর্ষ ছিনতাইকারী আটক করা হয়েছে অন্তত ৫০ জনের অধিক যাদের অনেকের বিরুদ্ধে ১৫ টির বেশি মামলা ও রয়েছে। এছাড়া নিয়মিত মামলার ২৫ জন আসামি গেল দশ দিনে আটক করেছে কক্সবাজার মডেল থানা। নিরাপদ শহর করতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান। কক্সবাজার শহরের এবং শহরের বাইরে ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে অভিযান আরো জোরদার করা হবে বলে কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন।
এদিকে কক্সবাজার মডেল থানা কর্তৃক এবং বিভিন্ন থানা থেকে আটককৃত ছিনতাইকারীদের পক্ষে জামিনের জন্য আদালতে না লড়ার অনুরোধ জানিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী মোঃ আব্দুল্লাহ। কক্সবাজার শহরকে নিরাপদ করতে শীর্ষ ছিনতাকারীদের অন্তত ৫ থেকে ৬ মাস হাজতবাসের জন্য কোন আইনজীবী যেন আইনি সহায়তা না দেয় সেই বিষয়ে সহকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।