# জড়িত থাকা চীনের ৬ নাগরিককে আটকের পর কারাগারে প্রেরণ
#২ হাজার আইফোন ও ল্যাপটপ উদ্ধার
আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের আড়াই শতাধিক সদস্য গত ৬ মাস ধরে কক্সবাজারে অবস্থান করে তাদের প্রতারণা অব্যাহত রেখেছে। কক্সবাজারের ইনানীর আশে-পাশে কয়েকটি আবাসিক হোটেল ভাড়া নিয়ে এসব বিদেশী নাগরিক অবস্থান করে আসছে।
বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজারের কলাতলি এলাকার হোটেল সি-প্যালেস থেকে এই চক্রের ৬ সদস্যকে আটকের পর পুলিশ আদালতে পাঠিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে। এরপরই প্রকাশ্যে এসেছে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের বিষয়টি।
বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট করে কোন কথা বলতে রাজী হননি পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।
তবে পুলিশের একাধিক সূত্র বলছে, এই চক্রের সদস্য সংখ্যা প্রায় আড়াই শত থেকে তিনশ জন। যাদের বেশির ভাগই চীনা ও তাইওয়ানি নাগরিক। যারা গত মার্চ মাসে কক্সবাজার আসেন এবং অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিলেন।
পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, এমন উল্লেখ যোগ্য সংখ্যক বিদেশী কক্সবাজার এসে রহস্যজনক কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। এর ভিত্তিতে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে পুলিশ। পুলিশ প্রাথমিক তথ্যে নিশ্চিত হন এরা সকলেই আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের সদস্য। এর মধ্যে রামু থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এক ব্যক্তি। যে অভিযোগের সূত্র ধরে নিশ্চিত হওয়া যায় এসব প্রতারক চক্রের বিষয়টি।
রামু থানার অভিযোগের বিষয়টি ঢাকার পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি আরও নিশ্চিত হলে পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান শুরু করে।
বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজারের কলাতলি এলাকার হোটেল সি-প্যালেস থেকে আটক করা হয় চীনের ৬ নাগরিককে। এটা নিশ্চিত করেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান।
তিনি শুক্রবার বিকালে জানান, অভিযানে ১৯৩৮টি আইফোন এবং অন্তত ৩০টি ল্যাপটপ এবং দেশি পুলিশের ব্যবহৃত যোগাযোগ সরঞ্জামের মতো কিছু বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে।রামু থানার অভিযোগের সূত্র ধরে ঢাকার পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আড়াই শত থেকে তিন শত সদস্য কক্সবাজার অবস্থান করছেন মার্চ মাস থেকে। যারা প্রতারণা করে আসছিলেন। ইতোমধ্যে এসব ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ জনকে আটক, অনলাইন প্রতারণা এবং সাইবার অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নিদের্শ দিয়েছে।
তিনি বলেন, এ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের ব্যাপারে ইতিমধ্যে রেড এলার্ট করা হয়েছে। এরা পালানোর সুযোগ নেই। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হোটেল সী-প্যালেস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৬ অগাস্ট চীনা নাগরিকদের একটি দল হোটেলটিতে ওঠে। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের অভিযানের সময় তাঁদের কয়েকজনকে আটক করা হয়।
কোন ধরণের প্রতারণা করতে এসব সদস্য কক্সবাজার এসেছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেননি পুলিশ। এমন কি রামু থানায় দায়ের করা মামলার বাদি কে তাও জানা যায়নি। তবে পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চক্রটি ইতিমধ্যে কক্সবাজারে অবস্থান করে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
প্রাপ্ত সূত্র বলছে, চক্রটি ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং, ই-মেইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নামে ভুয়া লিংক পাঠিয়ে লগইন তথ্য, ওটিপি, কার্ডের তথ্য বা পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করে অর্থ লুট, ভুয়া বিনিয়োগ ও ক্রিপ্টো প্রতারণা করে অল্প সময়ে বড় লাভের প্রলোভন দেখানো সহ নানা প্রতারণা করে আসছিল।