দুই কোটি ৫২ লক্ষ টাকা মূল্যের ৮৪ হাজার পিচ ইয়াবা টেবলেট পাচারের মামলায় একজনের যাবজ্জীবন (৩০ বছর সশ্রম) কারাদন্ড, একইসাথে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড ও অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো এক বছর সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১১ মে) কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের জেলা নাজির বেদারুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
দন্ডিত আসামী হলেন-কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মৃত কাশেম আলী ও মৃত জাবেদা খাতুনের পুত্র মোঃ আমিন (৫০)। রায় ঘোষণার সময় দন্ডিত আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্র পক্ষে পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম মামলাটি পরিচালনা করেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ :
২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে টেকনাফ স্টেশনের কোস্ট গার্ডের একটি টিম কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের কাটাবনিয়া মেরিনড্রাইভ এর মাথায় কালা মেম্বারের চরে অভিযান চালিয়ে মোঃ আমিনকে ৮৪ হাজার পিচ ইয়াবা সহ আটক করে। এ ঘটনায় কোস্ট গার্ড টেকনাফ স্টেশনের চীফ পেটি অফিসার এম. হুমায়ুন খান বাদী হয়ে মোঃ আমিনকে আসামী করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে টেকনাফ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার টেকনাফ থানা মামলা নম্বর : ৫৩, তারিখ : ১৫/০৯/২০২১ ইংরেজি, জিআর মামলা নম্বর : ৮০৪/২০২১ ইংরেজি (টেকনাফ) এবং এসটি মামলা নম্বর : ১৩১৫/২০২২ ইংরেজি।
বিচার ও রায় :
মামলাটি বিচারের জন্য চার্জ (অভিযোগ) গঠন করে বিচারকার্য শুরু করা হয়। মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামীদের পক্ষে তাদের জেরা, আলামত প্রদর্শন, রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্ট পর্যালোচনা, যুক্তিতর্ক সহ বিচারের জন্য সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য সোমবার দিন ধার্য্য করা হয়। রায় ঘোষণার দিনে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুর রহিম ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) ধারার ১০(গ) সারণি মতে মামলার আসামী মোঃ আমিনকে দোষী সাব্যস্থ করে যাবজ্জীবন (৩০ বছর সশ্রম) কারাদন্ড, একইসাথে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড ও অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো এক বছর সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর দন্ডিত আসামী মোঃ আমিনকে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে বলে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী দেলোয়ার হোসাইন জানিয়েছেন।