২০২৩ এর ১৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ এর ২৫ জুন; মাঝখানে কেটে গেছে ২ বছর ৮ মাস বা দিনের হিসেবে ৯৮২ দিন! অবশেষে ব্রাজিলের জার্সিতে আবারও মাঠে নামলেন নেইমার জুনিয়র। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের দিনে দ্বিতীয়ার্ধে মাতেউস কুনিয়ার বদলি হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেললেন ব্রাজিলের জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা। এর মাধ্যমে টানা চতুর্থ বিশ্বকাপে খেলার কীর্তি গড়লেন এই ৩৪ বছর বয়সী।
গ্রুপ ‘সি’-এর এই ম্যাচে প্রথমার্ধে জোড়া গোল করেন ভিনিসিউস জুনিয়র এবং দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটি গোল যোগ করেন মাতেউস কুনিয়া। একই দিনে মরক্কো হাইতিকে হারালেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২–এ উঠেছে ব্রাজিল।
ম্যাচের আগেই ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছিলেন, নেইমার পুরোপুরি ফিট এবং খেলতে প্রস্তুত। ৭৬তম মিনিটে কুনিয়ার বদলি হিসেবে এই ৩৪ বছর বয়সীকে মাঠে নামানো হয়। তখন ব্রাজিল ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। হার্ড রক স্টেডিয়ামে উপস্থিত বিপুল ব্রাজিল সমর্থক করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান।
ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি বলেন, 'আমার মনে হয়েছে সে খেলার সুযোগ পাওয়ার যোগ্য। তাই আমি তাকে সুযোগ দিয়েছি। সে খুব ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে এবং অত্যন্ত পেশাদার মনোভাব দেখিয়েছে। তার গুণগত মানের কারণে সে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। অল্প সময় খেললেও সে ভালো করেছে।'
নেইমারের মাঠে নামার আগেই ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে প্রথম গোল করেন তিনি। এরপর বিরতির ঠিক আগে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। নেইমারকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ভিনিসিয়ুস বলেন, 'হ্যাঁ, সবাই ভালো খেলেছে। আমরা দল হিসেবে খেলেছি, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নেইমারের মাঠে নামাটাও বড় ইতিবাচক বিষয়। সে আমাদের অনেক সাহায্য করতে পারে।'
৬০ মিনিটে ব্রাজিলের তৃতীয় গোলটি করেন কুনিয়া। এরপর ম্যাচে ফেরার মতো কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি হতাশাজনক স্কটল্যান্ড।
ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারেইস বলেন, 'নেইমার একজন তারকা, একজন জিনিয়াস এবং আমাদের সবার জন্য অনুপ্রেরণা। সে যখন মাঠে নামে, আমরা চেষ্টা করি তাকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করাতে। আজ মাঠে নামতে পেরে সে খুবই খুশি ছিল। সে শুধু একজন অসাধারণ ফুটবলারই নয়, একজন দারুণ মানুষও।'
ডান পায়ের কাফ ইনজুরির কারণে এক মাসেরও বেশি সময় মাঠের বাইরে ছিলেন নেইমার। গত রোববার (২১ জুন) অনুশীলনে অংশ নেওয়ার পর থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল যে তিনি খুব শিগগিরই খেলায় ফিরবেন।
ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার। ১২৯ আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার গোল সংখ্যা ৭৯। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এর আগে টানা তিনটি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন এবং মোট ৮টি গোল করেছেন।
তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে হাঁটুর এসিএল চোটে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তার ক্যারিয়ার কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছে। ক্লাব ফুটবলে সান্তোসের হয়ে চলতি মৌসুমে ৮ ম্যাচে ৪ গোল করেছেন তিনি। তার বর্তমান ভূমিকা এবং জাতীয় দলে থাকা উচিত কি না, তা নিয়ে এখনও ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।