আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি বলেছেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় কেউ চাঁদাবাজি করলে ধরে পুলিশকে দিতে এবং সাহসিকতার জন্য পুরস্কার দেওয়া হবে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) বিকেল ৫ টায় তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন৷ তিনি এই পোস্ট দেওয়ার পরপরই কয়েকঘন্টার মধ্যে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করে অনেকে।
মন্তব্যে দিদারুল ইসলাম রুবেল নামের একজন লিখেন, চাঁদাবাজদের ঘুম হারাম করে দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আসিফ নুর লিখেন, সাহসী ঘোষণার জন্য অভিনন্দন, চাঁদাবাজ খুব সংক্রমণ ব্যাধি।
ইমাম খাইর নিখেছেন, আপনার এই নৈতিক মনোবল আপনাকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। হাবিব উল্লাহ লিখেছেন, দখল বাজ, চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু, সন্ত্রাস, টেন্ডার বাজদের চিহ্নিত করতে হবে। না হয় রাজনীতির ভবিষ্যত ধ্বংস হয়ে যাবে। চিহ্নিত অপকর্মের হোতারা যেন আপনার পাশে ভিড়তে না পারে। এভাবে ধন্যবাদ, শুভ কামনা, পাশে আছি, গুড ম্যাসেজসহ নানা কমেন্ট করেছেন অনেকে ফেইসবুকে। এসব কমেন্টের মধ্যে বেশিরভাগই সাহসী পদক্ষেপ বলে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এর আগে তিনি নির্বাচিত হওয়ার পরদিন শুক্রবার বাহারছড়া মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। মুসল্লীদের সাথে কোলাকুলি বিনিময়ের পর তিনি বলেন, তার প্রধান লক্ষ্য হলো একটি নিরাপদ ও আধুনিক পর্যটন নগরী গড়ে তোলা। নির্বাচনের আগেও তিনি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কক্সবাজার, পর্যটন ও নির্বাচনী এলাকায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা দখলবাজির স্থান হবে না। যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত, তারা স্বেচ্ছায় যেন সরে দাঁড়ান। এসব চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেছিলেন, ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে নিজেদের কাজ চালাতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।
তিনি সতর্ক করে জানান, জয়ী কিংবা পরাজিত-কোনো পক্ষের নেতাকর্মী যাতে কারও বাড়িঘর বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্ষতি করতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইতোমধ্যে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। কক্সবাজারে চারটি আসনেই ভূমিধস জয় পায় বিএনপি। ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ও তার মিত্ররা পেয়েছে ২১২ আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পেয়েছে ৭৭ আসন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, স্বতন্ত্ররা পেয়েছে ৭টি আসন।
কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৯৬৪ জন। পোস্টাল ব্যালেটসহ মোট ১৮৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী লুৎফুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৬ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শহীদুল আলম বাহাদুর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৮২৭ ভোট।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুল ইসলাম (হাতপাখা) পেয়েছেন ৫ হাজার ১৪৯ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া (ফুটবল) পেয়েছেন ৯৪৭ ভোট, বাংলাদেশ লেবার পার্টির জগদীশ বড়ুয়া (আনারস) পেয়েছেন ৬০২ ভোট এবং আমজনতা দলের নুরুল আবছার (প্রজাপতি) পেয়েছেন ৩৬৭ ভোট।