রামুর বৌদ্ধ বিহার ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন কক্সবাজার -৩ ( সদর, রামু, ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। এই ঘটনার পুনর্তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, এই নৃশংস ঘটনার ১৪ বছর পার হলেও এখনো কোনো বিচার সম্পন্ন হয়নি। একারণে স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে এখনো ভীতি ও আস্থার সংকট কাটেনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর ) বিকেলে রামুর বাকঁখালী নদীতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কল্পজাহাজ ভাসা উৎসবে প্রধান আলোচকের বক্তব্য তিনি উপরোক্ত মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, এই ঘটনায় তৎকালীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই বেশি উৎসাহী হয়েছিল। তদন্তের নামে অনেক নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা হয়েছিল। এজন্য প্রকৃত আসামিরা যেন পার পেয়ে না যায়, সেজন্য পুনর্তদন্তের দাবির প্রয়োজন আছে। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে কথা বলবেন বলে তিনি জানান।
এমনকি কাজল বলেন, রামুতে এই জাহাজ উৎসব অনেক পুরোনো ; এটি কক্সবাজার নয়, পুরো বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে হবে। আমরা প্রমান করতে চাই, কক্সবাজার একটি সম্প্রতির শহর। যে শহরে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সবাই এই দেশের নাগরিক এবং সন্তান, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
তিনি আরও বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠন করেছে মাত্র ৮ মাস। এই অল্প সময়ে ধর্মীয় উৎসবগুলোর নিরবিচ্ছিন্ন- নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছে সরকার। খৃষ্টান ধর্মের বড় দিনের মত যেন প্রবারণার পূর্ণিমার দিনেও সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়, সেজন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।
জাহাজ ভাসা উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া। বিশেষ আলোচক ছিলেন, এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক শহিদুল আজম।
পরে সন্ধ্যা ৭ টায় শহরের গোলদিঘির পাড় বৌদ্ধ মন্দিরের উৎসবস্থল পরিদর্শন ও ধর্মীয় নেতাদের সাথে দীর্ঘ আলাপ করে তাঁদের দাবি দাওয়া পূরণের আশ্বাস দেন।
সকাল থেকে এ উৎসব ঘিরে নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন হাজারো মানুষ। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা, গান, নাচ ও বৌদ্ধ কীর্তনের মধ্য দিয়ে উৎসবটি পরিণত হয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলায়।