কক্সবাজারকে কেবল একটি পর্যটন শহর হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে এটিকে একটি সমন্বিত সামুদ্রিক অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপান্তর করার দাবি জানিয়েছন কক্সবাজার -৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল।
সোমবার ( ২২ জুন ) সংসদ অধিবেশনে এমপি লুৎফুর রহমান কাজলকে ৬ মিনিট সময় বেঁধে দেন স্পিকার। তিনি সেই সময়ের মধ্যে কক্সবাজারকে সামগ্রিক অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি জানান। একই সাথে বাজেট বাস্তবায়নে পূর্ববর্তী বিএনপি সরকারের সফলতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বর্তমান সরকারের বাজেটও সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বাজেট প্রসঙ্গে লুৎফর রহমান কাজল বলেন, এটি বিএনপি সরকারের ১৩তম বাজেট। মাত্র চার মাসের এই সরকারের মেয়াদে অত্যন্ত অল্প সময়ে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এটি হয়তো পুরোপুরি নিখুঁত বাজেট নয়, তবে বিরোধী পক্ষ বা অন্য যেকোনো পক্ষ থেকে গঠনমূলক পরামর্শ এলে তা অবশ্যই সমন্বয় করা হবে।
সংসদে নিজের নির্বাচনী এলাকা কক্সবাজারের সামগ্রিক গুরুত্ব তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য বলেন, পর্যটন, সমুদ্র সম্পদ, মৎস্য, লবণ ও সীমান্ত বাণিজ্যের কারণে কক্সবাজার জেলা জাতীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে তিনি সংসদের সামনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ও দাবি উত্থাপন করেন।
তিনি কক্সবাজারে সমুদ্র বিজ্ঞান, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু এবং ব্লু ইকোনমি গবেষণা ভিত্তিক একটি বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীতকরণের জোর দাবি জানান।
এছাড়া পর্যটন খাতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু এবং সব ধরণের অনুমোদন ও আইনগত প্রক্রিয়া সহজ করার কথা বলেন। পাশাপাশি লবণ চাষীদের জন্য ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, প্রযুক্তির ব্যবহার, সংরক্ষণ ও বিপণন সহায়তার লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র লবণ বোর্ড গঠন এবং ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নকে পৌরসভায় উন্নীত করার পাশাপাশি রামু উপজেলার পূর্বাঞ্চল নিয়ে নতুন বাঁকখালী উপজেলা গঠনের সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করার প্রস্তাব দেন।
যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে পর্যায়ক্রমে ৬ লেন-এ উন্নীত করা এবং নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলায় প্রশাসনিক ভবন, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দ্রুত নির্মাণের দাবি জানান লুৎফর রহমান কাজল এমপি। একই সাথে কক্সবাজার সিটি কলেজ এবং ঈদগাঁও রশীদ আহমদ কলেজকে সরকারি করার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করার জন্য তিনি আবেদন করেন।
বক্তব্যের শেষাংশে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন ব্যক্ত করে লুৎফর রহমান বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ করতে চাই যেখানে রাষ্ট্রব্যবস্থা জনগণের জন্য বাধা নয়, বরং সহায়ক হবে। শিক্ষা কেবল সনদ সর্বস্ব না হয়ে দক্ষতা সৃষ্টি করবে, স্বাস্থ্যসেবা সুযোগের বস্তু না হয়ে নাগরিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং উন্নয়নের সুফল অঞ্চল, শ্রেণী বা পরিচয় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
এদিকে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর কক্সবাজার সফরের সময় কক্সবাজার- ৩ আসনের এমপি লুৎফর রহমান কাজল কক্সবাজারের উন্নয়নের স্বার্থে এ ১০ দফা দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেন। সে সময় প্রধানমন্ত্রী তার দাবিগুলো শুনেন এবং পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার আশ্বাস দেন। এবার তিনি সংসদে দাবীগুলো উত্তাপন করলেন।