জাতীয় সংসদে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ তাঁর নির্বাচনী এলাকা মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার অবহেলিত মানুষের ভাগ্যউন্নয়নে একগুচ্ছ অত্যন্ত যৌক্তিক ও ইতিবাচক দাবি উত্থাপন করেছেন। বিশেষ করে মহেশখালী-কক্সবাজার সংযোগ সেতু এবং কুতুবদিয়ার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে তাঁর জোরালো ও আবেগঘন বক্তব্য সর্বস্তরের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে এমপি আলমগীর ফরিদ তাঁর এলাকার ভৌগোলিক সংকট ও চরম নদীভাঙনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, কর্ণফুলীর করাল গ্রাসের মতো কুতুবদিয়া দ্বীপটিও দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এক সময়ের ১০০ বর্গকিলোমিটারের কুতুবদিয়া বর্তমানে ক্রমাগত নদীভাঙনে মাত্র ৩০ বর্গকিলোমিটারে নেমে এসেছে। এই দ্বীপের অস্তিত্ব রক্ষা এবং পাঁচ লক্ষ মানুষের জানমাল নিরাপদ করতে কুতুবদিয়ার চতুর্দিকে একটি আধুনিক ও টেকসই প্রোটেক্টিভ বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি। একই সাথে দ্বীপাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সুগম করতে আধুনিক ফেরি সার্ভিস চালু করার জন্য তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি জোর দাবি জানান এবং আগামী একনেক সভাতেই এই প্রকল্প পাস করার তাগিদ দেন।
বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল মহেশখালী-কক্সবাজার সংযোগ সেতু নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবিটি। এমপি আলমগীর ফরিদ অত্যন্ত আবেগপূর্ণ কণ্ঠে বলেন, স্পিডবোট আর ডেনিশ বোটে করে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সাগরে সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, এই মৃত্যুর মিছিল আর দেখতে চান না তাঁরা। ৫ লক্ষ মহেশখালীর বাসিন্দার প্রাণের দাবি হিসেবে তিনি দ্রুত এই সংযোগ সেতুটি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, মহেশখালীর মাতারবাড়ি কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদিত ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে সারা দেশকে আলোকিত করছে, অথচ স্থানীয় মহেশখালী ও কক্সবাজারবাসীকে প্রায়ই অন্ধকারে থাকতে হয়। মূল ভূখণ্ডের সাথে এই দ্বীপ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগ সহজ করতে এই সংযোগ সেতু নির্মাণ করা তাই এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
সেতু ও বেড়িবাঁধের পাশাপাশি স্থানীয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনীতি চাঙ্গা করতে তিনি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি মাঠপর্যায়ে লবণ চাষীদের বাঁচাতে প্রতি মণ লবণের দাম সর্বনিম্ন ৬০০ টাকা নির্ধারণ এবং ক্ষতিকর লবণ আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ করার দাবি জানান। সেই সাথে মহেশখালীর ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি পানকে দ্রুত ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান। মেগা প্রকল্পগুলোর জন্য মহেশখালীর প্রায় ৪২ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করায় স্থানীয় মানুষ যাতে নিজস্ব ভূমিতে উদ্বাস্তু না হয়, সেজন্য মাতারবাড়ি, ধলঘাটা, কালারমার ছড়া ও হোয়ানকের ক্ষতিগ্রস্ত বেকার যুবকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব প্রকল্পে চাকরি দেওয়ার দাবি তোলেন তিনি। এছাড়া কুতুবদিয়ার একমাত্র কলেজে ডিগ্রি ও অনার্স কোর্স চালু এবং মহেশখালী কলেজকে দ্রুত সরকারি করণের মাধ্যমে শিক্ষার মান বাড়াতে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সংসদে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্যের এমন জনমুখী ও ইতিবাচক ভূমিকার পর মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে। দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের দুঃখ লাঘবে এবং তাঁদের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষে এই মহেশখালী-কক্সবাজার সেতু ও বেড়িবাঁধের দাবিটি সরকার দ্রুত বাস্তবায়ন করবে- এমনটাই এখন স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা।