স্টাফ রিপোর্টার, টেকনাফ
কক্সবাজারের টেকনাফে সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের কবল থেকে এক নারীসহ দুই ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৫। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা ভিকটিমদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করেছিল বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানতে পেরেছে র্যাব।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে টেকনাফ থানাধীন বাহারছড়া ইউনিয়নের শাপলাপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
র্যাব-১৫ সূত্রে জানা গেছে, র্যাব-১৫ এর (সিপিসি-২) হোয়াইক্যং ক্যাম্প এর একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাপলাপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অপহরণের শিকার কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার মনোয়ারা বেগম (৪৫) ও শমসু আলম (৩৫)-কে উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানাধীন এলাকা থেকে মনোয়ারা বেগম নিখোঁজ হন। এরপর তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে ঈদগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি র্যাবের কাছে আইনগত সহায়তা কামনা করা হয়। মনোয়ারা বেগমকে জিম্মি করে পরিবারের সদস্যদের কাছে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে। এ সময় চক্রের সদস্যরা ভিকটিমকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে বলে জানায় র্যাব। পরবর্তীতে অপহরণকারী চক্রটি বিকাশের মাধ্যমে পরিবারের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। টাকা পাওয়ার পরও তারা ভিকটিমকে ছেড়ে না দিয়ে আরও টাকা দাবি করতে থাকে। অতিরিক্ত টাকা না দিলে ভিকটিমদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
ভিকটিমদের পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় র্যাব। তাদের উদ্ধারে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করা হয়। একপর্যায়ে র্যাব-১৫-এর সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, অপহরণকারী চক্রটি ভিকটিমদের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শাপলাপুর এলাকায় আটকে রেখেছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৫, সিপিসি-২ (হোয়াইক্যং ক্যাম্প) এর একটি আভিযানিক দল ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে শাপলাপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে অপহরণের শিকার মনোয়ারা বেগম ও শমসু আলমকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর উদ্ধারের পর দুই ভিকটিমকে র্যাবের পক্ষ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের ঈদগাঁও থানার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, এ ঘটনায় ভিকটিমদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অপহরণকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করতে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযানও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-১৫।
স্থানীয়দের মতে, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মতো ঘটনায় জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান প্রয়োজন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী টেকনাফের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।