কক্সবাজার কর অফিসের সম্মেলন কক্ষ ‘পারাবার’-এ কক্সবাজার ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়কর অঙ্গনের পথিকৃৎ ও প্রবীণ আইনি ব্যক্তিত্ব মরহুম অ্যাডভোকেট ছৈয়দুল হকের স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কক্সবাজার ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহমেদের সভাপতিত্বে এবং মরহুমের কনিষ্ঠ কন্যা অ্যাডভোকেট তানজিন সিদ্দিকা মুনিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজ উদ্দিন।
স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কর অঞ্চল কক্সবাজারের কর কমিশনার মর্তুজা শরিফুল ইসলাম বলেন, "মানুষের সৎকর্ম ও অবদানের মাধ্যমেই মৃত্যুর পরও সে স্মৃতিতে অমর হয়ে থাকে। অ্যাডভোকেট ছৈয়দুল হক তার কর্মফলেই আমাদের মাঝে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।"
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর সোমেশ্বর চক্রবর্তী মরহুমের শৈশব ও সমসাময়িক জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, "অ্যাডভোকেট ছৈয়দুল হক ছিলেন স্বশিক্ষায় শিক্ষিত ও আলোকিত এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি নিজে সফল হওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলেছেন।"
স্মরণসভায় মরহুমের বিস্তারিত জীবনী পাঠ করেন তাঁর কন্যা, কক্সবাজার সিটি কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক শারমিন সিদ্দিকা লিমা। পাঠকৃত নিবন্ধ অনুযায়ী, মরহুম ছৈয়দুল হক ১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে পিতৃহীন হলেও কঠোর অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে ১৯৬০ সালে কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ থেকে বিকম ও চট্টগ্রাম আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম জোনে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির পর ১৯৮৫ সালে তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টাতেই কক্সবাজারে প্রথম আয়কর অফিসের যাত্রা শুরু হয়। তিনি কক্সবাজার ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ ট্যাক্সেস লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএল) সাবেক সহ-সভাপতি এবং কক্সবাজার আইন কলেজের সাবেক অধ্যাপক ছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি ‘অ্যাডভোকেট ছৈয়দুল হক অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস’ গঠনের মাধ্যমে বহু রাজস্ব ও জটিল মামলার মেধাভিত্তিক সমাধান দিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আস্থা অর্জন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, দৈনিক কক্সবাজারের পরিচালনা সম্পাদক মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলাম, কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমির সভাপতি নুরুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম এ হাশেম সিআইপি, এফবিসিসিআই সদস্য ও কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, কক্সবাজার সিটি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সারায়াত পারভিন লুবনা, মুক্তি কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহী পরিচালক বিমল চন্দ্র দে সরকার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম, কর অফিসের সুপারভাইজার মো. আসহাব উদ্দিন এবং মেসার্স আমান সল্ট অ্যান্ড নলবিলা ফিশিংয়ের স্বত্বাধিকারী হাসানুল আবেদীন চৌধুরী।
পারিবারিক স্মৃতিচারণ পর্বে মরহুমের জ্যেষ্ঠ কন্যা নাজনিন সিদ্দিকা লুনা তাঁর বাবার শিক্ষণীয় উপদেশসমূহ স্মরণ করেন। দ্বিতীয় কন্যা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাসরিন সিদ্দিকা লিনা বাবার অনুপ্রেরণায় আইন পেশায় আসার অনুভূতি ব্যক্ত করেন। মরহুমের একমাত্র পুত্র সিটি ব্যাংক লিমিটেডের ভিপি ইকবাল গনী সিদ্দিকী এমন মহতী আয়োজনের জন্য ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন ও উপস্থিত সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
স্মরণসভা শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন তাঁর জামাতা, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. শহিদুল ইসলাম।