ছয় কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা মূল্যের ২ লক্ষ ১৮ হাজার পিচ ইয়াবা টেবলেট পাচারের মামলায় একজনের ১৫ বছর সশ্রম কারাদন্ড, একইসাথে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড ও অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৩ মে) কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের জেলা নাজির বেদারুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
দন্ডিত আসামী হলেন-কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার ডেল পাড়া ক্ষেতের বিল এলাকার অনন্ত কুমার শীলের পুত্র রাজু শীল (৪০)। রায় ঘোষণার সময় দন্ডিত আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ে টেকনাফ উপজেলার নাজির পাড়ার গুরা মিয়ার পুত্র ইমাম হোসেনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়। রাষ্ট্র পক্ষে পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম মামলাটি পরিচালনা করেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ :
২০১৭ সালের ১৬ মে রাত ১১ টার দিকে বিজিবি ২ নম্বর ব্যাটালিয়নের একটি টিম কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাফ নদীর ভাঙা এলাকায় এক অভিযান চালিয়ে ৬ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা মূল্যের ২ লক্ষ ১৮ হাজার পিচ ইয়াবা টেবলেট উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বিজিবি ২ নম্বর ব্যাটালিয়নের হাবিলদার আশরাফুল আলম বাদী হয়ে রাজু শীল সহ ২ জনকে আসামী করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে টেকনাফ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার টেকনাফ থানা মামলা নম্বর : ৪৮, তারিখ : ১৭/০৫/২০১৭ ইংরেজি, জিআর মামলা নম্বর : ৪৩৬/২০১৭ ইংরেজি (টেকনাফ) এবং এসটি মামলা নম্বর : ১৫৪৪/২০১৮ ইংরেজি।
বিচার ও রায় :
মামলাটি চার্জ (অভিযোগ) গঠন করে বিচারকার্য শুরু করা হয়। মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামীদের পক্ষে তাদের জেরা, আলামত প্রদর্শন, রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্ট পর্যালোচনা, যুক্তিতর্ক সহ বিচারের জন্য সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য বুধবার দিন ধার্য্য করা হয়। রায় ঘোষণার দিনে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুর রহিম ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার ৯ এর(খ) সারণি মতে মামলার আসামী রাজু শীলকে দোষী সাব্যস্থ করে ১৫ বছর সশ্রম কারাদন্ড, একইসাথে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড ও অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। রায়ে মামলার অপর আসামী মোঃ ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়। দন্ডিত আসামী রাজু শীলকে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে প্রেরণ করা হয় বলে একই আদালতের বেঞ্চ সহকারী দেলোয়ার হোসাইন জানিয়েছেন।