কক্সবাজারের মহেশখালীর দুই ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ আবার দৈনিক ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট ছাড়িয়েছে।
এতে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২ হাজার ৬২৪ মিলিয়ন ঘনফুটে (এমএমসিএফডি) উঠেছে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন-পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ৮টায় আমদানি করা এলএনজি থেকে পাওয়া গ্যাস বা আরএলএনজির সরবরাহ ছিল ১ হাজার ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট। দেশীয় ক্ষেত্র থেকে পাওয়া যাচ্ছিল ১ হাজার ৬০৯ মিলিয়ন ঘনফুট।
দুপুর ১২টায় আরএলএনজি সরবরাহ ছিল ৯৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিকাল ৪টায় তা ৯৯১ মিলিয়ন ঘনফুট এবং রাত ৮টায় ১ হাজার ১৫ মিলিয়ন ঘনফুটে ওঠে।
দুই টার্মিনালের মোট সরবরাহ সক্ষমতা ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সেই হিসাবে রাত ৮টায় সক্ষমতার প্রায় ৯২ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে।
এক সপ্তাহ আগে সংকট কাটিয়ে দেশে গ্যাসের সরবরাহ ‘কয়েকদিনের মধ্যে’ স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেছেন, দেশে মোট গ্যাসের চাহিদা ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট, বর্তমানে সরবরাহ আছে ২৬শ থেকে ২৭শ মিলিয়ন ঘনফুট। যার মধ্যে ১৬শ অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসে; আর ১ হাজার পাওয়া যায় এলএনজি থেকে।
গত ২১ জুলাই আগুনে এক্সিলারেটের টার্মিনালের বৈদ্যুতিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর ৬ অগাস্ট টার্মিনালটি আংশিক চালু হয়। পরে কারিগরি সমস্যা ও কার্গোর স্বল্পতায় সেখানকার সরবরাহ কয়েক দফা ওঠানামা করে।
আগুন লাগার আগে দুই টার্মিনাল থেকে সাধারণত ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ ঘনফুটি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল। আগুনের পর সরবরাহ এক ধাক্কায় প্রায় অর্ধেকে নেমে যায়। মঙ্গলবারের সরবরাহ প্রায় সেই আগের অবস্থায় ফিরল।
ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে ১ হাজার ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট দেশের সর্বোচ্চ গ্যাস সরবরাহ নয়। গত মে মাসে একদিন ১ হাজার ৭৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হয়েছিল, যা ২০১৮ সালে এলএনজি আমদানি শুরুর পর সর্বোচ্চ।