শিশু অপহরণের মামলায় এক অপহরণকারীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও এক লক্ষ টাকা অর্থদন্ড, অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ২ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) রোকেয়া আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন। একই ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ শামীম এ তথ্য জানিয়েছেন।
দন্ডিত আসামী হলেন- কক্সবাজারের রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম উমখালী গ্রামের মো: শাহজাহানের পুত্র মো: ফারুক (২৮)। রাষ্ট্র পক্ষে একই আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেন টিটু মামলাটি পরিচালনা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার প্রেক্ষাপট :
দন্ডিত আসামী মোঃ ফারুকের সাথে রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নের তেচ্চিপুল এলাকার নুরুল আমিনের কন্যা ময়না বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের ৫ মাস পর উভয়ের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি কারণে বিয়েটি ভেঙে যায়। পরে ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর বিকেল ৪ টার দিকে নুরুল আমিনের পুত্র, ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র সাজাদ হোসেন (১১) স্কুল থেকে ফেরার পথে নূরুল আমিনের বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে মোঃ ফারুক তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের পর মোঃ ফারুক তার মোবাইল ফোন থেকে অপহৃত শিশু সাজাদ হোসেনের মা হামিদা বেগমকে কল করে ২লক্ষ টাকা টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ ঘটনায় অপহরণকারী মো: ফারুক, তার পিতা মো: শাহজাহান ও মাতা নুরুন্নাহার বেগমকে আসামী করে অপহৃত শিশু সাজাদ হোসেনের মা হামিদা বেগম বাদী হয়ে রামু থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
বিচার প্রক্রিয়া ও রায় :
তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত করে (আইও) মামলার চার্জশীট থেকে মো: শাহজাহান ও নুরুন্নাহার বেগমকে বাদ দেওয়ার প্রার্থনা জানিয়ে আসামী মোঃ ফারুকের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট প্রদান করেন। মো: শাহজাহান ও নুরুন্নাহার বেগমকে মামলার দায় হতে অব্যাহতি দিয়ে আদালত চার্জশীটটি গ্রহন করে এবং অভিযুক্ত মো: ফারুকের বিচারের জন্য চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেন। মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ, সাক্ষীদের আসামীর পক্ষে জেরা, আলামত প্রদর্শন, যুক্তিতর্ক সহ বিচারের জন্য সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করা হয়। ধার্যদিনে কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) রোকেয়া আক্তার ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় আসামী মো: ফারুককে দোষী সাব্যস্থ করে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও এক লক্ষ টাকা অর্থদন্ড, অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ২ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ শামীম জানান, আসামী আদালতে আত্মসমর্পণ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে সাজা কার্যকর করা হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।