বিশ্বজিত ভৌমিক, আইনজীবী, কক্সবাজার
বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩-এর কার্যকর প্রয়োগ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসী কর্মীদের দ্রুত আইনি প্রতিকার প্রদানে বিদ্যমান প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোর কিছু ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতা দূর করা আবশ্যক। মাঠপর্যায়ের আইনি অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, বিএমইটি বা সংশ্লিষ্ট সরকারি অভিযোগ সেলে দীর্ঘদিন আবেদন জানিয়েও অনেক অভিযোগকারী কোনো প্রতিকার পান না। পরবর্তীতে সরাসরি আদালতে মামলা দায়েরের পর পুলিশি তদন্ত ও আইনি সহায়তার চাপে ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের অর্থ ফেরত পান বা সমঝোতায় পৌঁছান।
বিএমইটি বা সংশ্লিষ্ট সরকারি অভিযোগ সেলগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষ বা আইনি সহায়তা সংস্থার উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এর ফলে রিক্রুটিং এজেন্সির প্রভাব এড়িয়ে ভুক্তভোগীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সঠিক সমন্বয় সহজ হবে।
জেলা বৈদেশিক কর্মসংস্থান বা অন্যান্য সরকারি কার্যালয়ে অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে বিএমইটি কার্ড বা লিখিত চুক্তিপত্রের মতো নানা জটিল শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। অথচ অসচেতনতা ও দারিদ্র্যের কারণে সাব-এজেন্টদের দ্বারা প্রতারিত অধিকাংশ সাধারণ কর্মী এসব কাগজপত্র পান না। তাই এই শর্তগুলো আরও শিথিল ও সহজ করা দরকার।
এর পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের স্ট্যান্ডিং কমিটি বা স্থানীয় পর্যায়ে সম্পন্ন হওয়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির নথিগুলোকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি রূপ দেওয়া প্রয়োজন, যেন স্থানীয় মধ্যস্থতায় সমাধান না হলে সেই নথি আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আইনি কাঠামোর এসব জটিলতা কমিয়ে আনলে এবং প্রশাসনিক সেলগুলোতে ভুক্তভোগীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা গেলে সাধারণ অভিবাসী কর্মীরা দ্রুত ও কার্যকর বিচার পাবেন।