কক্সবাজারের চকরিয়ায় আলোচিত ছাত্রদল নেতা ইসফাতুল ইসলাম জিসান (২৮) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত মাইক্রোবাস চালক আনোয়ার হোসেন (কালু) আদালতে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের সাথে নিজের সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
এর আগে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে চকরিয়া থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল উপজেলার কাকারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ার হোসেন (কালু) উপজেলার কাকারা ইউনিয়ন ৩ নম্বর ওয়ার্ড,দক্ষিণ লোটনী এলাকার আবু বক্করের ছেলে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ শুরু থেকেই অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি কালু আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
ওসি আরও জানান, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের ধরতেও পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি চৌকস দল কাকারা এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে রাত সাড়ে ১০ টায় কালুকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তিনি বিচারকের কাছে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন। নিজের দোষ স্বীকার করেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার চিরিঙ্গা বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে কাকারা সড়কের ছাবেরের দোকান এলাকা থেকে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে জিসানকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর তাকে চকরিয়া পৌরসভা ৪নম্বর ওয়ার্ড সবুজবাগ আবাসিক এলাকার "কবির টাওয়ার" এ নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেঁধে প্রচণ্ড নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। পরে লাশটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় খুনিরা। পরে পুলিশ মহাসড়কের পাশ থেকে জিসানের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। নিহত জিসান চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক ছিলেন।
নিহতের বড়ভাই কাইছার হামিদ বাদী হয়ে ২ নারীসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে চকরিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।