কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কমিটির সদস্য সাংবাদিক আতাহার ইকবাল (৭৪) আর নেই।
তিনি গত মঙ্গলবার দিনগত মধ্যরাত ১টার দিকে কক্সবাজারে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান রেখে গেছেন।
বুধবার বিকেল পাঁচটায় কক্সবাজার শহরের বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স মসজিদ প্রাঙ্গনে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় কক্সবাজারের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ রাজনীতিবীদ, স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
একাধারে সাংবাদিক, সংগীত শিল্পী, বেতার উপস্থাপক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও তাঁর যথেষ্ট খ্যাতি ছিল। ১৯৭২ সালে তিনি দৈনিক গণকন্ঠের প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে আতাহার ইকবাল কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক তরঙ্গ, সাগর বানী, দৈনিক বাকখালীর প্রকাশক ও সম্পাদক ছিলেন। চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক পুর্বকোণ, দৈনিক নয়াবাংলা, ঢাকার দৈনিক জনকণ্ঠ, দৈনিক মানবজমিন, দৈনিক মাতৃভূমি পত্রিকার কক্সবাজার প্রতিনিধি ও স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ১৯৭৫ সালে কক্সবাজার প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাকালে তিনি ছিলেন অন্যতম অগ্রণী ভুমিকায়।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি দীর্ঘকাল তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। শুরুতে জড়িত ছিলেন জাসদ ছাত্রলীগের সাথে। তিনি ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তে যোগদান করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে তিনি কক্সবাজার মহকুমা যুবদলের সেক্রেটারি এবং যুব সংস্থার চেয়ারম্যান ছিলেন। নব্বই দশকের শেষের দিকে তিনি জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস এর দীর্ঘদিনের সভাপতি ছিলেন।
এদিকে সাংবাদিক আতাহার ইকবালের মৃত্যুতে দৈনিক কক্সবাজার সম্পাদক ফাতেমা জাহান, পরিচালনা সম্পাদক মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলাম, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের পক্ষে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাহবুবর রহমান, মমতাজ উদ্দিন বাহারী এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাফর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
পৃথক শোক বার্তায় বলা হয়, কক্সবাজারে সাংবাদিকতা পেশায় তাঁর দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, সততা ও অবদান কক্সবাজারের গণমাধ্যম অঙ্গনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে কক্সবাজারবাসী একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক, অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব এবং গণমাধ্যমের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হারালো।
মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহমর্মিতা জানান নেতৃবৃন্দ।