জামায়াতে ইসলামীকে ‘জাতীয় প্রতারক দল’ আখ্যা দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “ভোটের জন্য জামায়াত জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে, জান্নাত বিক্রি করছে। তাই ‘জান্নাত পার্টি’ থেকে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।
সোমবার সন্ধ্যায় চকরিয়া উপজেলার চকরিয়া বাসষ্টেশনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী শেষ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য তাদের একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, ৩১ দফার ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোকে গণতান্ত্রিকভাবে সংস্কার করা হবে।
তিনি বলেন, সংবিধানের গণতান্ত্রিক সংস্কার করা হবে এবং দেশের সব সেক্টরে কমিশন গঠন করে প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে সুশাসন নিশ্চিত করা হবে। সাংবিধানিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার বাস্তবায়ন করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সহজ ভাষায় বলতে গেলে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের জন্ম না হয়। মানুষের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার কিংবা মানবাধিকার আদায়ের জন্য আর যেন কাউকে রক্ত দিতে না হয়-সে লক্ষ্যেই এই সংস্কার।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সন্তানেরা রক্ত দিয়ে শহীদ হয়েছেন একটি বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য আর কাউকে জীবন দিতে হবে না।”
ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, “বিএনপির ইতিহাস এ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইতিহাস, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ইতিহাস। আগামী ১২ তারিখ আপনারা সবাই নির্ভয়ে ধানের শীষে ভোট দেবেন। ফলাফল না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ত্যাগ করবেন না। ইনশাআল্লাহ জনগণের বিজয় হবে, কারণ বিএনপির সরকার মানেই জনগণের সরকার।”
দুপুর থেকেই চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। ঢাকঢোল, স্লোগান ও নাচ-গানে মুখর হয়ে ওঠে বাস টার্মিনাল এলাকা। অনেকের হাতে ছিল ব্যানার, ফেস্টুন, দলীয় ও জাতীয় পতাকা এবং ধানের শীষ প্রতীক।
বিকেল গড়াতেই পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জায়গার সংকটে অনেককে ভবনের ছাদ ও বিলবোর্ডে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
বিকেল ৫টার দিকে মঞ্চে ওঠেন সালাহউদ্দিন আহমদ। হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানালে করতালি ও স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান নেতাকর্মীরা।
জনসভায় বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী হাসিনা আহমদ এবং তার ছেলে সাঈদ ইব্রাহিম আহমদ।