সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ফেনী জেলার চার তরুণ অপহরণ মামলার অন্যতম পলাতক আসামি জাহাঙ্গীরকে (২৯) কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫)।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৫, সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প)-এর একটি আভিযানিক দল।
গ্রেপ্তার হওয়া জাহাঙ্গীর টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রঙ্গীখালী (জুম্মাপাড়া) এলাকার গোড়া মিয়ার ছেলে। সে ফেনীর চার তরুণ অপহরণের ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানায় দায়ের করা মামলার ৮ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল' অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
র্যাব জানায়, ফেনীর চাঞ্চল্যকর চার তরুণ অপহরণ মামলার আসামিরা টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে আছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৫ তাদের নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে র্যাব জানতে পারে যে, মামলার অন্যতম পলাতক আসামি জাহাঙ্গীর জাদিমুড়া এলাকায় অবস্থান করছে।
খবর পেয়ে র্যাব-১৫ এর সিপিসি-১ এর একটি চৌকস দল জাদিমুড়া এসআর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীত পাশে অবস্থান নেয়। পরে ওই এলাকার 'এনামুল হক জনির কুলিং কর্নার'-এর সামনে থেকে আসামি জাহাঙ্গীরকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র্যাব। এ সময় তল্লাশি করে তার কাছ থেকে একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জাহাঙ্গীর চার তরুণ অপহরণের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ চক্রের পলাতক অন্য আসামিদের ধরতেও র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন মাসে ফেনী থেকে চার তরুণ টেকনাফে এসে নিখোঁজ হয়। পরে তাদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করার ঘটনায় টেকনাফ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যা দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।