মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, এডভোকেট
'মাদকদ্রব্য বহনকারীরাই মাদক মামলায় বার বার ধরা পড়ে, কিন্তু মাদক কারবারি বা তাদের পরিবারের সদস্যরা সংসদে যায়' বলে অভিযোগ করেছেন ব্রাম্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংশোধন বিল ২০২৬ পাসের জন্য উত্থাপনের পর বিলটির ওপর জনমত যাচাই-বাছাইয়ের প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা মহান সংসদে এ অভিযোগ করেন।
তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন আমরা যে মামলাগুলো দেখি সেখানে দেখা যায় ক্যারিয়াররাই(বাহক) বার বার ধরা পড়ে। কিন্তু বদির মতো যারা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হিসেবে সরকারের দপ্তরের রির্পোটে উঠে আসে তারা সংসদে যায়, তারা যেতে না পারলে তাদের পরিবারের সদস্যরা যায়। আইন যথেষ্ট শক্ত, মাত্র ২৫ গ্রাম এর ওপরে মাদক পেলেই যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত শাস্তি দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরও কি করে লাখ লাখ পিস ইয়াবা কিংবা কয়েক কেজি হেরোইনসহ ক্যারিয়াররা যখন ধরা পড়ে আমরা কিন্তু তার ওপরে উঠতে পারি না।( বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১৪ জুলাই )। বহুল প্রচারিত বদি বিগত দুই বছর ধরে কারাগারে আটক। তার পরিবারের সদস্যরাও বাড়ীঘর ফেলে এখন পলাতক। এখন দেশে চোরাচালানীর মাধ্যমে মাদক কে বা কারা আনে সেই প্রশ্ন কাকে করা যাবে? সরকারী দলের সংসদ সদস্যরাও প্ররোক্ষভাবে কক্সবাজারের নেতাদের কটাক্ষ করে, দায়ী করে মজা পান। আসল কথা হলো অর্থনীতির ধর্ম অনুযায়ী মাদকের চাহিদা দেশে থাকলে সরবরাহ যে কোনভাবে আসবেই। অতি লাভজনক ব্যবসা হিসেবে কতিপয় রাজনীতিবিদরাও সুযোগ পেলে লজ্জাসরমের মাথা খেয়ে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে যাবেন তাতে সন্দেহ নাই। আবার দেশে মাদক সেবন বন্ধ করা গেলে মাদকের চাহিদাও থাকবে না,তাতেও কোন সন্দেহ নাই। তখন মাদক ক্রয় করার জন্য কেউ বা কোন ক্রেতা থাকবে না বিধায় ইয়াবা/হেরোইন বা অন্য মাদক চোরাইপথে কেউ আমদানী করবে না। স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাদক কারবার/ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য। দেশব্যাপী প্রতি ঘরে ঘরে পাড়ায় পাড়ায় মাদকসেবন বন্ধ করার প্রচার প্রচারণা সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম সরকারীভাবে গ্রহন করলে, সরকারী দল,বিরোধী দল ও জনগণ মিলে আন্তরিকভাবে মাদকসেবন বন্ধের আন্দোলনে অংশগ্রহন করলে অবশ্যই মাদকসেবন বন্ধ হবে ইনশাল্লাহ।
আশার আলো দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন ১৪ জুলাই সংখ্যার ৯ পৃষ্টায় ’মাদকাসক্ত ছেলেকে পুলিশে দিলেন মা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। মাদারীপুরের রাজৈরে খুরশিদা বেগম ও মোস্তফিজুর রহমান খানের একমাত্র মাদকাসক্ত পুত্র আল আমিনকে মা পুলিশে দিলে ভ্রাম্যমান আদালত তাকে হাতেনাতে ধৃত করে মাদক সেবন ও বিক্রির দায়ে ১০ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছেন।
১৪ জুলাই দৈনিক কক্সবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী নতুন বাজার মিয়াজীর পাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মহেষখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আবু জাফর মজুমদার মাদকাসক্ত সাইফুল ইসলাম(২৬) নামের এক যুবককে গাজা ও ৪ পিস ইয়াবাসহ মাদক সেবনরত অবস্থায় পেয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন,২০১৮ এর ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী তাকে ৫০০০ টাকা জরিমানা এবং এক বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জনস্বার্থে মহেশখালী উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন। মাদারীপুর জেলার ও কক্সবাজার জেলার মোবাইল কোর্ট কর্তৃক মাদকাসক্তকে ঘটনাস্থলে দণ্ডিত করা হয়েছে সংক্রান্ত প্রকাশিত খবর জনগণকে ব্যাপকভাবে আশাবাদী করেছে। দেশের আমজনতা মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, পুলিশ ও মাদকাসক্ত ছেলের মা-বাবাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন, দোয়া করছেন। আশা করা যায়, বাংলাদেশের সকল জেলাতে মাদকসেবনের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন ও মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে মাদকসেবন বন্ধ হবে। ফলে মাদক কারবারও বন্ধ হয়ে যাবে বিধায় মাদক বহনকারীরা আর ধরা পড়বে না। মাদক কারবারীরা বা তাদের পরিবারের সদস্যরা সংসদে যাওয়ার আর অবকাশ থাকবে না। বিবেকবান কাউকে লজ্জায় ও আত্মগ্লানিতে ভোগতে হবে না।
ইদানিং প্রতি দিন বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে সড়ক পথে বা নৌপথে বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট ও সার পাচারকালে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হাতে ধৃত হওয়ার সচিত্র সংবাদ পত্রিকায় দেখা যাচ্ছে। মিয়ানমারে বাংলাদেশের সিমেন্ট ও সারের প্রচুর চাহিদা থাকায় ঝুকি নিয়ে ব্যবসায়ীরা/চোরাকারবারীরা মিয়ানমারে পাচার করার সময় ধৃত হচ্ছে। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যচুক্তি আছে। দেশের অভ্যন্তরিণ চাহিদা মিটিয়ে সরকারীভাবে সিমেন্ট ও সার মিয়ানমারে রপ্তানীর ব্যবস্থা করা হলে সরকার প্রচুর রাজস্ব পাবে, চোরাচালানীর মাধ্যমে পাচার করার প্রয়োজনও আর হবে না বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।