জেসিয়া খাতুন, পরিচালক, ওয়ারবিডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন
অভিবাসন মূলত একটি আন্তর্জাতিক বিষয়, যা একাধিক দেশের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। তাই একটি কার্যকর ও সুশাসিত অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে প্রধান তিনটি স্তম্ভ নিশ্চিত করতে হবে- সুরক্ষা, সম্মানএবং প্রতিকার। দেশের ভেতর এবং গন্তব্য দেশ- উভয় স্থানেই অভিবাসীদের মানবাধিকার, কাজের মর্যাদা এবং আইনি প্রতিকারের পথ উন্মুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমানে আমাদের দেশে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা কিছু থাকলেও সেগুলোর প্রচার এবং তথ্যের প্রবেশাধিকার অত্যন্ত সীমিত। তথ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে অভিবাসনের সঠিক তথ্য তৃণমূলের কর্মীদের কাছে পৌঁছায় না। ফলে তথ্যবঞ্চিত হয়ে বিশেষ করে নারী অভিবাসীরা প্রায়শই স্থানীয় সাব-এজেন্ট ও দালালদের খপ্পরে পড়েন এবং প্রতারণার শিকার হন।
এই তথ্য ঘাটতি মেটাতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার গুলোতে একটি করে ‘মাইগ্রেশন কর্নার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে অভিবাসন ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি স্বতন্ত্র ‘স্ট্যান্ডিং কমিটি’ গঠন এবং তার জন্য জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা দরকার। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে যুক্ত করে এই কাঠামোটি জাতীয় পর্যায় থেকে একদম ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত বিস্তৃত করতে হবে।
আইনি সংস্কারের ক্ষেত্রে অভিবাসন ও উন্নয়ন সংক্রান্ত সংসদীয় ককাসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ২০১৩ ও ২০২৩ সালের বৈদেশীক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইনের নানা দিক ও বিধিমালা বাস্তবায়নে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের অগ্রগতির পথ হয়তো কিছুটা ধীর বা চড়াই-উৎরাই পূর্ণ, তবে সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করলে অভিবাসন খাতে একটি টেকসই ও অভিবাসীবান্ধব শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।