যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ জুলাই) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
টানা ১৩তম রাতের মতো ইরানে মার্কিন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে এবং আমার মনে হয়, দিন যত যাচ্ছে তারা ততই বেশি আন্তরিক হচ্ছে—সম্ভবত কিছু স্পষ্ট কারণেই।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এ পর্যন্ত আমরা তাদের যতটা দেখেছি, এখন তারা সবচেয়ে বেশি আন্তরিক। তবে এর অর্থ এই নয় যে আমরা অবশ্যই একটি চুক্তিতে পৌঁছাব।’
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কারা এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘মোটামুটি সবাই। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন।
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করার কোনো তাড়াহুড়ো নেই বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমাদের এটি সঠিকভাবে করতে হবে।’
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একাধিক কৌশল রয়েছে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে অনেকগুলো বিকল্প পথ খোলা আছে।
সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা কী—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটি হলো সামরিক পথ, যেখানে আমরা এখন অভিযান চালিয়ে যেতে পারি। চাইলে হামলার মাত্রা আরও বাড়াতে পারি, যা সবকিছু ধ্বংস করে দিচ্ছে।’
তবে সামরিক পথের পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের কথাও তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আরেকটি আরও বুদ্ধিমান কৌশল আছে, সেটি হলো একটি চুক্তিতে পৌঁছানো। তারাও একটি চুক্তি করতে চায়। আমার মনে হয়, তারা এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তবে তারা চুক্তি করতে চায়।’
এ সময় সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়েও কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি এগিয়ে নেয়া হবে না। তার ভাষায়, আব্রাহাম চুক্তির আওতায় রিয়াদের ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনই হবে সেই সহযোগিতার পূর্বশর্ত।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, বর্তমান সংকট নিরসনে কোনো মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন নেই। বরং যুক্তরাষ্ট্রকেই নীতি পরিবর্তন করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ইরান কোনো চাপ বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না। আরাঘচির দাবি, ইরানের জনগণের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তেহরান তার অবস্থান থেকে সরে আসবে না।
দুই পক্ষের এমন অবস্থানের মধ্যেই হরমুজ প্রণালির কাছে ৩০ নাবিক বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর সামনে এসেছে। উন্মুক্ত সামুদ্রিক রেডিও যোগাযোগে শোনা যায়, একটি জাহাজকে ইরানের জলসীমার দিকে অগ্রসর না হওয়ার সতর্কবার্তা দেয়া হচ্ছে এবং ইঞ্জিন কক্ষে হামলার হুমকিও দেয়া হয়। কিছুক্ষণ পর ‘দিশা’ নামের জাহাজটি জরুরি বার্তায় জানায়, অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জাহাজে থাকা ৩০ নাবিককে উদ্ধারে অবিলম্বে সহায়তা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুতি-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম আল মাসিরাহ দাবি করেছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরনগরী হোদেইদায় সৌদি আরব বিমান হামলা চালিয়েছে। এর আগে হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে এবং দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দায় স্বীকার করে। জাতিসংঘ এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং সামুদ্রিক চলাচলের ওপর নতুন হুমকি পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়াবে।