পরপর দুই বলে রানআউটের সুযোগ মিস। ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ ছাড়লেন হাসান মাহমুদ। এরপর দাঁতে দাঁত চেপে ইয়ামিন আহমদজাই আর কাইস আহমেদের প্রতিরোধ। প্রাণপণ চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত উইকেটের দেখা পেল না বাংলাদেশ। আবুধাবি টেস্টে শুরু থেকে দাপট দেখিয়েও শেষে আর জয় পাওয়া হলো না বাংলাদেশের। চতুর্থ ইনিংসে দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে জয়ের সমান দামী ড্র করল আফগানিস্তান।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আবুধাবি টেস্টের পঞ্চম দিনে অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়েছে। সেদিকুল্লাহ আতালের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং টেল এন্ডারদের প্রতিরোধে বাংলাদেশের বিপক্ষে ড্র করেছে আফগানিস্তান। নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হওয়া এই ড্র বাংলাদেশকে হারের বিষাদই উপহার দিল।
চতুর্থ ইনিংসে ১৪২ ওভার ব্যাট করে ম্যাচ বাঁচিয়েছে আফগানিস্তান। বাংলাদেশের দেয়া ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৮ উইকেটে রান তুলে দিন শেষ করে তাড়া।
এর আগে ১৩৭তম ওভারের শেষ বলে তাইজুল ইসলাম ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন। দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলা ইয়ামিন আহমদজাইয়ের ক্যাচ শর্ট লেগে মুমিনুলের হাতে জমা পড়ে। তার আগে তিনি ৮৫ বল মোকাবেলা করে ১৯ রান করেন।
তবে কাঙ্ক্ষিত শেষ ২ উইকেট আর শিকার করতে পারেনি টাইগাররা।
আফগানিস্তানের ব্যাটারদের ধৈর্যের প্রমাণ মেলে তাদের খেলা বলের সংখ্যায়। সেদিকুল্লাহ ৩৩২, রহমত শাহ্ ১২৪, আহমদজাই ৮৫, কাইস আহমেদ ৮০, হাশমতউল্লাহ ও ইকরাম আলিখিল ৬৯ এবং ইসমাত আলম ৬০টি করে বল মোকাবেলা করেন।
গতকাল ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে দিন শেষ করা আফগানিস্তান আজ ড্রয়ের লক্ষ্য নিয়েই দিন শুরু করে।
দিনের শুরুতে আহত হয়ে মাঠ ছাড়েন হাশমতউল্লাহ। কিন্তু তাতে বিচলিত হয়নি আফগানরা।
ইকরাম আলীখিল আর সেদিকুল্লাহ মিলে ভালো একটা জুটি গড়েন। ৬৬ রানের সেই জুটি ভাঙে লিটন দাসের দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে। ৬৯ বলে ৩৩ রান করা আলীখিলকে লিটনের ক্যাচ বানান ইবাদত। এরপর ক্রিজে দেয়াল তুলে দাঁড়িয়ে যান ইসমাত আলম। সেদিকুল্লাহকে দেন দারুণ সঙ্গ। ৪ রান করে মিরাজের বলে আউট হলেও তার আগে খেলেছেন মূল্যবান ৬০টি বল।
ইসমাতের পর ক্রিজে ফেরেন হাশমতউল্লাহ। দলীয় ২৬৪ রানের সময় মিরাজের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন তিনি। ৬৯ বলে ৩৬ রান করে আউট হন হাশমতউল্লাহ।
ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেয়া সেদিকুল্লাহকে ফিরিয়ে আফগানদের বড় ধাক্কা দেন তাইজুল। আউট হওয়ার আগে ৩৩২ বলে ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ১১১ রান করেন এই ওপেনার।
কিন্তু ইয়ামিন ও কাইস আহমেদ উইকেটে প্রতিরোধ দুর্গ গড়ে তোলেন। বাংলাদেশের বাজে ফিল্ডিংও বাড়তি জীবন দেয় তাদের।
অষ্টম উইকেট জুটিতে ১০৬ বল মোকাবেলা করেন তারা। ইয়ামিন আউট হন ম্যাচের আর ৫ ওভার বাকি থাকতে। ৮৫ বলে ১৯ রান করে মিরাজের বলে আউট হন তিনি। বাকি কয়েকটি ওভার কাইস ও জিয়া মিলে কাটিয়ে দেন।
কাইস ৮০ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন। কোনো রান না করলেও ১২টি মূল্যবান বল টিকে থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন জিয়া-উর রহমান।
বাংলাদেশের পক্ষে মিরাজ ও ইবাদত ৩তি করে উইকেট শিকার করেন। হাসান ও তাইজুল পান ১টি করে উইকেট।