কক্সবাজারে বাড়ছে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৫ জন। যার মধ্যে শুধুমাত্র কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ২০ বেডের বিশেষ ‘হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে’ ভর্তি হয়েছেন ২৩ জন।
মঙ্গলবার (১২ মে) কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ‘হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে’ চিকিৎসা নিচ্ছে ৭০ জন রোগী।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, বেডের তুলনায় রোগী সংখ্যা বেশি। এসব রোগীর চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) কক্সবাজার সদর হাসপাতালের দেয়া তথ্য মতে, হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৭০ জন রোগী। যার মধ্যে পুরুষ ২৫ ও নারী ৪৫। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৩ জন। যার মধ্যে পুরুষ ১৪ ও নারী ৯ জন। আর ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা ৪০ জন। যার মধ্যে পুরুষ ২৪ ও নারী ১৬ জন।
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল আরএমও শান্তনু ঘোষ বলেন, মাত্র ২০ শয্যার বিপরীতে এত বিপুল সংখ্যক রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা সেবা পরিচালনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও আইসোলেশন ওয়ার্ড সচল রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে সেখানে মাত্র পাঁচজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া গেলে রোগীদের আরও ভালোভাবে সেবা দেয়া সম্ভব হবে। সংকটের মধ্যেও ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক ও সিনিয়র কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চালু রাখতে তারা সর্বাত্মকভাবে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
আরএমও শান্তনু ঘোষ বলেন, ওয়ার্ডের স্থান সংকুলান না থাকায় অতিরিক্ত বেড স্থাপন সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত বিছানা পেতে এবং অনেক ক্ষেত্রে এক বেডে দুই থেকে তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
এদিকে, মঙ্গলবার কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেয়া তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টা কক্সবাজার জেলায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৪৫ জন। যার মধ্যে টেকনাফে ১২, উখিয়ায় ৪, রামুতে ৬, চকরিয়ায় ৬, কুতুবদিয়ায় ১, মহেশখালীতে ৫, পৌরসভায় ৭, সদরে ৩ ও অন্যান্য ১ জন।
গত ২৯ মার্চ থেকে মঙ্গলবার (১২ মে) পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১৮৩৩ জন। যার মধ্যে টেকনাফে ২২৮, উখিয়ায় ১৬০, রামুতে ১৯৪, চকরিয়ায় ২৮৩, পেকুয়ায় ৬৫, কুতুবদিয়ায় ২২, মহেশখালীতে ৩৭৩, পৌরসভায় ২৪০, সদরে ২০৮ ও অন্যান্য ৬০ জন।
গত ২৯ মার্চ থেকে মঙ্গলবার (১২ মে) পর্যন্ত নমুনা প্রেরণের সংখ্যা ৪২৪ জন। এর মধ্যে ৪২৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১১৯ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। যার মধ্যে টেকনাফে ২, উখিয়ায় ৩, রামুতে ১৯, চকরিয়ায় ১৭, পেকুয়ায় ৭, কুতুবদিয়ায় নেই, মহেশখালীতে ৩২, পৌরসভায় ২১, সদরে ১৮ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৫ জন। আর হাসপাতালে অবস্থান করা রোগীর সংখ্যা ১৪০। যার মধ্যে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ৭০ জন, চকরিয়ায় ১৩ জন, পেকুয়ায় ৪ জন, উখিয়ায় ১২ জন, টেকনাফে ১৯ জন, কুতুবদিয়ায় ১ জন, রামুতে ৬ জন ও মহেশখালীতে ১৫ জন।
হাসপাতালগুলো থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬২ জন। আর ২৯ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত জেলায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।