কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) নিয়মিত উচ্ছেদ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে হঠাৎ ভাটা পড়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পর্যটন জোনসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে অবৈধ স্থাপনা ও বহুতল ভবন। যথাযথ তদারকির অভাবে দখলদারেরা বেপরোয়া হয়ে উঠলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এমনকি এর আগে অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া ভবনগুলোও পুণরায় সংস্কার করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
কউক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত বছরের শেষ ছয় মাসে ২৭টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সংস্থাটি। এসব অভিযানে ১২৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং জরিমানা বাবদ মোট ২৩ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
এপ্রিলে সৈকত পাড়া ও কলাতলীতে শতকোটি টাকার সরকারি জমি উদ্ধার এবং সৈকত সরণির বাতিল প্লটে দুটি অবৈধ কটেজ উচ্ছেদ করা হয়েছে।
আগস্ট ছিল কউকের সবচেয়ে সক্রিয় মাস। ১০টি মোবাইল কোর্টে ৪৮টি মামলার মাধ্যমে রেকর্ড ১৪ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে রেস্তোরাঁ, ফার্মেসি, শপিং মলসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, উচ্ছেদ হওয়া বেশ কিছু স্থাপনা বর্তমানে নাম পরিবর্তন বা জোড়াতালি দিয়ে আবারও চালু করা হয়েছে। বর্তমানে ইসিএ ভুক্ত এলাকায় অন্তত ৫০টি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া কউক ভবনের মাত্র ২০০ মিটারের মধ্যে সৈকত সরণির বাতিলকৃত প্লটেও ৫টি নতুন স্থাপনা তৈরি হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, বিল্ডিং কোড ও ইমারত নির্মাণ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাতারাতি এসব ভবন তোলা হচ্ছে।
হঠাৎ অভিযান বন্ধ হওয়া প্রসঙ্গে কউকের সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা বেগম জানান, 'সামনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে দখলদারদের সব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।'
কউকের অথরাইজড অফিসার প্রকৌশলী রিশাদ-উন-নবী বলেন, 'অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে কেউ পার পাবে না। লুকিয়ে কাজ করলে তা বৈধ হয়ে যায় না। আমরা অবৈধ ভবনের তালিকা তৈরি করেছি এবং দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
কউক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, 'আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বল্প সময়ে অনেকগুলো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আদায়কৃত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। সমস্যাগুলো গণমাধ্যমে উঠে এলে আমাদের কাজ করতে সুবিধা হয়। আমরা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি।'