কুতুবদিয়ার কৃতী সন্তান,রাজনীতিবিদ ও শিক্ষক মরহুম জালাল আহমদ চৌধুরীর জীবন,কর্ম, দর্শন ও জনকল্যাণমূলক অবদান নিয়ে স্মৃতিকথন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে তাঁর জীবন ও কর্মের ওপর রচিত ‘কক্সবাজারের বাতিঘর’ জীবনীগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কক্সবাজার অরুণোদয় স্কুলের হলরুমে জালাল আহমদ চৌধুরী ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাহাঙ্গীর আলম। জালাল আহমদ চৌধুরীর জীবন ও কর্মের ওপর একটি ভিডিও উপস্থাপনা করেন রেডিও সৈকতের স্টেশন ম্যানেজার জেরিন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের উপস্থিত ছিলেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী,উখিয়া ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অজিত দাশ,সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন,প্রেসক্লাব কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী,কক্সবাজার সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. গিয়াস উদ্দিন, হেল্প কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেম, কালারমারছড়া মহেশখালীর সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল কাদের বাবুল, অ্যাডভোকেট সাকী-এ-কাউছার, অ্যাডভোকেট শামসুল আলম, প্রাইম ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক রমিজ আহমেদ, লেখক ও সাহিত্যিক মকবুল আহমেদ, সাহিত্য একাডেমি কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম, জেলা উপকূলীয় পল্লী উন্নয়ন পরিষদের প্রধান নির্বাহী নুরুল আমিন সিদ্দিক, কোস্ট ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক বারেকুল ইসলাম চৌধুরী,দিলবর জাহান হেনা, সাদমান,ইঞ্জিনিয়ার জিয়া উদ্দিন,ওয়ান ব্যাংকের কর্মকর্তা আমিরুল করিম,সিবিএনের প্রতিনিধি ইমাম খাইর, সাবেক কাউন্সিলর আক্তার কামাল,ইকরাম চৌধুরী টিপু,সরোয়ার আজম মানিক, মোশেদ উর রহমান খোকন,এহছান আল কুতুবী,জাহাঙ্গীর আলম শামসসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন,“জালাল আহমদ চৌধুরী শুধু একজন রাজনীতিবিদ ও শিক্ষক ছিলেন না,তিনি ছিলেন মানুষের জন্য নিবেদিত একজন আলোকিত মানুষ এবং আমার পিতা। তাঁর জীবন ও কর্মের সঙ্গে আমার শৈশব পরিবার ও বেড়ে ওঠার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা, সততা ও জনকল্যাণের আদর্শকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর কর্ম ও দর্শন তুলে ধরা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব।
‘কক্সবাজারের বাতিঘর’ গ্রন্থের লেখক নুরুল ইসলাম বলেন, “জালাল আহমদ চৌধুরীর জীবন ছিল মানুষের কল্যাণ ও এলাকার উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, শিক্ষকতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁকে কুতুবদিয়ার মানুষের কাছে একজন আলোকিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। তাঁর জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাঁর অবদান সংরক্ষণ করাই এই গ্রন্থ রচনার মূল উদ্দেশ্য।
অ্যাডভোকেট সাকী-এ-কাউছার বলেন, জালাল আহমদ চৌধুরী ছিলেন নীতি, আদর্শ ও জনকল্যাণের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ একজন প্রজ্ঞাবান মানুষ। তাঁর কর্ম ও মূল্যবোধ কুতুবদিয়ার মানুষের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকেও মানবকল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।
সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন বলেন,জালাল আহমদ চৌধুরী ছিলেন শিক্ষা, সমাজ ও জনকল্যাণের প্রতি নিবেদিত একজন আলোকিত মানুষ। তাঁর সততা, প্রজ্ঞা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
অ্যাডভোকেট শামসুল আলম বলেন,জালাল আহমদ চৌধুরী শুধু আমার শ্বশুরই ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমার জীবনের একজন অভিভাবক ও অনুপ্রেরণার মানুষ। তাঁর সততা, মানবিকতা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার কথা আমি সবসময় গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি।
প্রেসক্লাব কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী বলেন,জালাল আহমদ চৌধুরী ছিলেন মানুষের কথা বলার সাহসী ও জনবান্ধব একজন ব্যক্তিত্ব। কুতুবদিয়ার উন্নয়ন, শিক্ষা ও মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ‘কক্সবাজারের বাতিঘর’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। আয়োজকরা জানান, গ্রন্থটি শুধু একজন মানুষের জীবন ও কর্মের বিবরণ নয়; এর মাধ্যমে কক্সবাজারের সামাজিক,রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়াস করা হয়েছে।
বক্তারা বলেন,মরহুম জালাল আহমদ চৌধুরীর স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাঁর আদর্শ, মূল্যবোধ ও জনকল্যাণমূলক চিন্তাধারা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁর কর্ম ও আদর্শকে ধারণ করে সমাজ ও মানুষের কল্যাণে এগিয়ে যাওয়াই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।